ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বর্ণ খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈধ শিল্পে রূপান্তরের সরকারি উদ্যোগ ইয়েমেনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সরকারি বাহিনীর ৩০ সেনা নিহত ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ১৩ দিন ধরে উত্তাল রাঁচি গবেষণায় সততা: বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্য দায়বদ্ধতা অর্থ আত্মসাৎ: ঢাকা ব্যাংকের ৪ সাবেক কর্মকর্তার ২০ বছরের কারাদণ্ড আইএইচজি ওনার্স ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ পেলেন ক্রাউন প্লাজা ঢাকার জিএম জবির ৬৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি আনোয়ারা প্রশাসনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনসিপি নেতার তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ

অর্থ আত্মসাৎ: ঢাকা ব্যাংকের ৪ সাবেক কর্মকর্তার ২০ বছরের কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ঢাকা ব্যাংকের সাবেক চার কর্মকর্তাকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক এবং শওকত আলী।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি শওকত আলী আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের রায়ে আসামিদের তিনটি পৃথক ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। জালিয়াতির অপরাধে প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড। এছাড়া, অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামের এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। পরবর্তীতে তিনি ওডি ঋণের আবেদন করলে তার বিপরীতে ১৭ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। এই ঋণের বিপরীতে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের ১ হাজার শেয়ার এবং মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের ৭ হাজার ৫০০ শেয়ার জামানত হিসেবে রাখা হয়। পরবর্তীতে ঋণের সীমা ১৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ লাখ টাকা করা হয়। তবে ঋণ পরিশোধের পর শেয়ারগুলো যাচাই করতে গিয়ে জানা যায় যে, জামানত হিসেবে রাখা সব শেয়ারই ছিল ভুয়া ও জাল। ইউসূফ আলী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল শেয়ার জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। আর ব্যাংক কর্মকর্তা শওকত আলী হিসাব খোলার সময় ইউসূফ আলীকে শনাক্ত করেন এবং পরস্পর যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেন।

এই জালিয়াতির ঘটনায় ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর শওকত আলীকে অভিযুক্ত করে প্রথম চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই মামলার চার্জগঠন করে বিচার শুরু হলেও পরবর্তীতে তা অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট এই চার কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী। তবে মূল অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলা চলাকালে আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থ আত্মসাৎ: ঢাকা ব্যাংকের ৪ সাবেক কর্মকর্তার ২০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৮:৪২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
print news

বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় ঢাকা ব্যাংকের সাবেক চার কর্মকর্তাকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক এবং শওকত আলী।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি শওকত আলী আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের রায়ে আসামিদের তিনটি পৃথক ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। জালিয়াতির অপরাধে প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড। এছাড়া, অর্থ আত্মসাতের দায়ে প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামের এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। পরবর্তীতে তিনি ওডি ঋণের আবেদন করলে তার বিপরীতে ১৭ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। এই ঋণের বিপরীতে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের ১ হাজার শেয়ার এবং মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের ৭ হাজার ৫০০ শেয়ার জামানত হিসেবে রাখা হয়। পরবর্তীতে ঋণের সীমা ১৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ লাখ টাকা করা হয়। তবে ঋণ পরিশোধের পর শেয়ারগুলো যাচাই করতে গিয়ে জানা যায় যে, জামানত হিসেবে রাখা সব শেয়ারই ছিল ভুয়া ও জাল। ইউসূফ আলী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাল শেয়ার জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। আর ব্যাংক কর্মকর্তা শওকত আলী হিসাব খোলার সময় ইউসূফ আলীকে শনাক্ত করেন এবং পরস্পর যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেন।

এই জালিয়াতির ঘটনায় ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর শওকত আলীকে অভিযুক্ত করে প্রথম চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই মামলার চার্জগঠন করে বিচার শুরু হলেও পরবর্তীতে তা অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট এই চার কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী। তবে মূল অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলা চলাকালে আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy