সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ

- আপডেট সময় : ০২:৫২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ঠা আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই সভায় কমিটির কাজের পদ্ধতি এবং কাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠকের শুরুতে কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং কিছুক্ষণ পর তিনি বেরিয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কমিটির লক্ষ্য হলো সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য, টেকসই এবং জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায় এমন সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করা। বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বিরোধী দলসহ সমাজের সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারা অচিরেই তাদের নাম দেবেন। এছাড়া আলোচনার জন্য বিরোধী দল চাইলে মিটিংয়ে এসে অথবা লিখিতভাবেও পরামর্শ দিতে পারে।
কমিটি শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাইযোদ্ধা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামত নেবে। এছাড়া সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং জুলাই জাতীয় সনদ তৈরিতে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও মতামত গ্রহণ করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই সনদের ৪৮ দফার মধ্যে থাকা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়গুলো গ্রহণ করা হবে এবং যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোও সেভাবেই বিবেচনা করা হবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, কোনো প্রস্তাব যেন সংবিধানের অন্য অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। তিনি ভারতের কেশবানন্দ ভারতী মামলা ও বাংলাদেশের অষ্টম সংশোধনী মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংবিধান সংশোধন করা গেলেও রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের মূল প্রস্তাব, দলগুলোর সম্মতি এবং নোট অব ডিসেন্ট মিলিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা তৈরি করা হবে।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এই সংবিধান সংশোধন কেবল বর্তমান সংসদের মেয়াদের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে করা হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্য নতুন হওয়ায় জটিল বিষয়গুলো বুঝতে তাদের কিছুটা সময় লাগতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিব রহমান, মো. নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল।



























