জুলাই অভ্যুত্থানে রাকিবুল হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

- আপডেট সময় : ০৭:০৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে রাকিবুল হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত শেষে পিবিআই পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই এই চার্জশিট আদালতে জমা দেন, যা শনিবার প্রকাশ্যে আসে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ ও বিপ্লব কুমার, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, লোকমান হোসেন, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লা, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচি, এখলাস উদ্দিন মোল্লা এবং সাবেক কাউন্সিলর কাসেম মোল্লাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চার্জশিটে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পর ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা গোপন বৈঠকে আন্দোলন দমনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ওইদিন রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল মিরপুর-১০ এর গোলচত্বরে পৌঁছালে অজ্ঞাত আসামির ছোড়া বুলেটে রাকিবুল হোসেন (২৯) এর গলার বাম পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হন। আজমল হসপিটালে নিলে চিকিৎসক রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন এবং রাত ১টার সময় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। তৎকালীন ভয়ের পরিবেশ ও দমন-পীড়নের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করেন। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি মিরপুর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নিহত রাকিবুল এমআইএসটি থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে একটি জুটমিলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকালে লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতের আদেশ থাকলেও স্থানীয়দের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত এমআইএসটি ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাকানিকালে গ্রাজুয়েশন শেষ করে সুপার জুটমিলের বনানী হেড অফিসে সহকারি ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করছিলেন।


























