ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান: শক্তিশালী সিন্ডিকেট ধরাছোঁয়ার বাইরে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন সোনা চোরাচালানের একটি নিরাপদ করিডরে পরিণত হয়েছে। ফলের ক্যারেট, বিমানের টয়লেট কিংবা যাত্রীর শরীর—চোরাচালানের কৌশল প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আগে দু-এক কেজির চালান ধরা পড়লেও বর্তমানে একেকটি চালানে ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সোনা মিলছে। গত পাঁচ বছরে এই বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই হাজার কেজি সোনা জব্দ করেছে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বাহকরা মাঝেমধ্যে আটক হলেও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিমানবন্দর থানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সোনা চোরাচালানের অভিযোগে ৫৪১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ১১৪টি, ২০২২ সালে ১৩৫টি, ২০২৩ সালে ১১২টি, ২০২৪ সালে ৮৪টি এবং ২০২৫-২৬ সালে ৯২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা কাস্টমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শতাধিক অভিযানে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ২ হাজার কেজি সোনা জব্দ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৬৯৭ কেজি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫৪ কেজি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১৭ কেজি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬৮ কেজি ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭০ কেজির কিছু বেশি সোনা জব্দ হয়েছে। একই সময়ে বৈধভাবে আমদানি করা সোনা থেকে ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকা শুল্ক-কর আদায় হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানবন্দরের ভেতরে সংঘবদ্ধ সহযোগিতা ছাড়া এত বড় চালান বারবার আসা অসম্ভব। শুধু বাহককে আটক করে এই অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়; বরং কার্গো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তা ও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বিত নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ দাবি করেন, তাদের নজরদারির কারণেই চালানগুলো ধরা পড়ছে এবং চোরাকারবারিদের ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চোরাচালানে অন্তত অর্ধশতাধিক কৌশল ব্যবহার করা হয়। দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েত থেকে আসা ফ্লাইটগুলো এই কাজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের ফ্লাইট ব্যবহার করে নতুন কৌশলে সোনা পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া অতীতে কেবিন ক্রু, পাইলট, প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিদেশে অবস্থানকারী অন্তত অর্ধশত ব্যক্তিকে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা স্থানীয় জুয়েলারি দোকানে সোনা বিক্রি করে বা সীমান্ত দিয়ে পাচার করে।

চলতি বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরে বড় তিনটি চালান জব্দ হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ মার্চ রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৪৮ ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। মোট ওজন ছিল ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম। ২৪ ক্যারেটের এসব সোনার বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এছাড়া ২ জুলাই ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম সোনা এবং ১৯ জুলাই ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে ১৬ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোশরা ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না এবং তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই পুরো চক্রের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান: শক্তিশালী সিন্ডিকেট ধরাছোঁয়ার বাইরে

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন সোনা চোরাচালানের একটি নিরাপদ করিডরে পরিণত হয়েছে। ফলের ক্যারেট, বিমানের টয়লেট কিংবা যাত্রীর শরীর—চোরাচালানের কৌশল প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আগে দু-এক কেজির চালান ধরা পড়লেও বর্তমানে একেকটি চালানে ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সোনা মিলছে। গত পাঁচ বছরে এই বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই হাজার কেজি সোনা জব্দ করেছে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে বাহকরা মাঝেমধ্যে আটক হলেও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিমানবন্দর থানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সোনা চোরাচালানের অভিযোগে ৫৪১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ১১৪টি, ২০২২ সালে ১৩৫টি, ২০২৩ সালে ১১২টি, ২০২৪ সালে ৮৪টি এবং ২০২৫-২৬ সালে ৯২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা কাস্টমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শতাধিক অভিযানে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ২ হাজার কেজি সোনা জব্দ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৬৯৭ কেজি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫৪ কেজি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১৭ কেজি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬৮ কেজি ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭০ কেজির কিছু বেশি সোনা জব্দ হয়েছে। একই সময়ে বৈধভাবে আমদানি করা সোনা থেকে ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকা শুল্ক-কর আদায় হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিমানবন্দরের ভেতরে সংঘবদ্ধ সহযোগিতা ছাড়া এত বড় চালান বারবার আসা অসম্ভব। শুধু বাহককে আটক করে এই অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়; বরং কার্গো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তা ও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বিত নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ দাবি করেন, তাদের নজরদারির কারণেই চালানগুলো ধরা পড়ছে এবং চোরাকারবারিদের ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চোরাচালানে অন্তত অর্ধশতাধিক কৌশল ব্যবহার করা হয়। দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েত থেকে আসা ফ্লাইটগুলো এই কাজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের ফ্লাইট ব্যবহার করে নতুন কৌশলে সোনা পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া অতীতে কেবিন ক্রু, পাইলট, প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিদেশে অবস্থানকারী অন্তত অর্ধশত ব্যক্তিকে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা স্থানীয় জুয়েলারি দোকানে সোনা বিক্রি করে বা সীমান্ত দিয়ে পাচার করে।

চলতি বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরে বড় তিনটি চালান জব্দ হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ মার্চ রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৪৮ ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। মোট ওজন ছিল ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম। ২৪ ক্যারেটের এসব সোনার বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এছাড়া ২ জুলাই ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম সোনা এবং ১৯ জুলাই ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে ১৬ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোশরা ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না এবং তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই পুরো চক্রের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor