সরকারি ব্যয়ে নতুন গাড়ি কেনা ও বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বুধবার (৮ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে গাড়ি কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া নতুন বা প্রতিস্থাপিত সব জিপ ও কার অবশ্যই বৈদ্যুতিকচালিত হতে হবে।
নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণ খাতের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। কোনো প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে তা শেষ করার জন্য ব্যয় করা যাবে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রেও নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ থাকবে, তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের শর্ত কিছুটা শিথিল হতে পারে।
সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিদেশি সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা, ফেলোশিপ কিংবা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিটি খাতে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।























