ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টের সঙ্গে থাকছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের জমজমাট লড়াই পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে বহু ভবন ৮ হাজার লবণচাষি মাঠে নামার অপেক্ষায়, শঙ্কায় ন্যায্যমূল্য ইরান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে জনগণ, ট্রাম্পকে দুষলেন ডেমোক্র্যাটরা চাপ অব্যাহত থাকলে মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত: রাহুল গান্ধী ১১ বছর ধরে বন্ধ এমআরআই, দিনাজপুর মেডিকেলে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিলাই শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী মাদারগঞ্জে আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স শিক্ষকদের বেতন সংকটে বন্ধ লামার মিরিঞ্জা প্রাথমিক বিদ্যালয়

ই-জিএসএম তরঙ্গ নিলাম নিয়ে রবি ও বাংলালিংকের ভিন্ন অবস্থান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশের গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় মুঠোফোন সেবার মান বাড়াতে কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ বা স্পেকট্রাম বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে এই ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলামের আয়োজন নিয়ে দেশের দুই শীর্ষ বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। রবি দ্রুত এই তরঙ্গের নিলামের দাবি জানালেও বাংলালিংক চাইছে নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে দেওয়া হোক।

বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে মুঠোফোনের সিগন্যাল চলাচল করে, যা অনেকটা টর্চলাইটের আলোর মতো কাজ করে। বর্তমানে অপারেটরদের ব্যবহৃত তরঙ্গ দ্রুতগতির ইন্টারনেট দিতে পারলেও দেয়াল বা ছাদ সহজে ভেদ করতে পারে না। ফলে টাওয়ার কাছে থাকলেও ঘরের ভেতর নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লোয়ার-ব্যান্ড’ বা কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং ভবনের ভেতরেও সহজে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার নেটওয়ার্ক উন্নত করতে এই তরঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। গত জুনে গ্রামীণফোন দুর্গম এলাকায় সেবা বাড়াতে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ চালু করে। সে সময় রবি ও বাংলালিংকও বিটিআরসির কাছে ই-জিএসএম ব্যান্ডের তরঙ্গ চেয়েছিল।

অপারেটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির একটি কারিগরি কমিটি ৮৮০ থেকে ৮৮৮ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ এবং ৯২৫ থেকে ৯৩৩ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ রেঞ্জের ‘এক্সটেন্ডেড জিএসএম’ বা ইজিএসএম ব্যান্ডের সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতে গত জুনে অপারেটরদের অতিরিক্ত লোয়ার-ব্যান্ড তরঙ্গ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি বিটিআরসি ই-জিএসএম ব্যান্ডের তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য চূড়ান্ত করতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে কম ইন্টারফেরেন্সযুক্ত ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য প্রতি মেগাহার্টজে ২১৪ কোটি টাকা এবং বেশি ইন্টারফেরেন্সযুক্ত ৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য ১৭৮ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ১৫ বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর আগে দাম নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় এবার নির্দিষ্ট দাম উল্লেখ করে পুনরায় অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে কমিশন।

এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিটিআরসিকে দেওয়া চিঠিতে নিলাম পেছানোর অনুরোধ জানায় বাংলালিংক। অপারেটরটির মতে, সরকার বর্তমানে নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করছে, যা সংযোগ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে বড় সিদ্ধান্ত নিলে তা ভবিষ্যতের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, তারা ইজিএসএম স্পেকট্রামের কার্যকর ব্যবহারের পক্ষে। তবে আগামী নভেম্বরে তরঙ্গ নবায়ন এবং টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যেখানে তরঙ্গ ভাগাভাগি ও এমভিএনও-এর মতো বিষয়গুলো আসতে পারে। তাই নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

এর বিপরীতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিটিআরসিকে চিঠি দেয় রবি। তারা জানায়, গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করতে ই-জিএসএম তরঙ্গ দ্রুত উন্মুক্ত ও বরাদ্দ করা প্রয়োজন। নীতিমালার সঙ্গে এই বরাদ্দের কোনো সরাসরি বাধ্যবাধকতা নেই বলেও তারা উল্লেখ করে। রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, তরঙ্গের চাহিদা অপারেটরভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং তরঙ্গ না নেওয়ার স্বাধীনতা যেকোনো অপারেটরের আছে। তবে রবির গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে তরঙ্গের প্রয়োজনীয়তা থাকায় তারা বিটিআরসিকে দ্রুত নিলামের অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানান, টেলিযোগাযোগ নীতিমালার সঙ্গে তরঙ্গ নিলামের কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রণালয় থেকে তরঙ্গের ভিত্তিমূল্যের অনুমোদন পেলেই নিলামের আয়োজন করা হবে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৯ কোটির বেশি মুঠোফোন গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৭২ লাখ, রবির প্রায় ৬ কোটি এবং বাংলালিংকের গ্রাহকসংখ্যা ৩ কোটি ৭৯ লাখের বেশি। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটকও সেবা দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ই-জিএসএম তরঙ্গ নিলাম নিয়ে রবি ও বাংলালিংকের ভিন্ন অবস্থান

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশের গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় মুঠোফোন সেবার মান বাড়াতে কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ বা স্পেকট্রাম বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে এই ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলামের আয়োজন নিয়ে দেশের দুই শীর্ষ বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। রবি দ্রুত এই তরঙ্গের নিলামের দাবি জানালেও বাংলালিংক চাইছে নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে দেওয়া হোক।

বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে মুঠোফোনের সিগন্যাল চলাচল করে, যা অনেকটা টর্চলাইটের আলোর মতো কাজ করে। বর্তমানে অপারেটরদের ব্যবহৃত তরঙ্গ দ্রুতগতির ইন্টারনেট দিতে পারলেও দেয়াল বা ছাদ সহজে ভেদ করতে পারে না। ফলে টাওয়ার কাছে থাকলেও ঘরের ভেতর নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লোয়ার-ব্যান্ড’ বা কম ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং ভবনের ভেতরেও সহজে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার নেটওয়ার্ক উন্নত করতে এই তরঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। গত জুনে গ্রামীণফোন দুর্গম এলাকায় সেবা বাড়াতে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ চালু করে। সে সময় রবি ও বাংলালিংকও বিটিআরসির কাছে ই-জিএসএম ব্যান্ডের তরঙ্গ চেয়েছিল।

অপারেটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির একটি কারিগরি কমিটি ৮৮০ থেকে ৮৮৮ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ এবং ৯২৫ থেকে ৯৩৩ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ রেঞ্জের ‘এক্সটেন্ডেড জিএসএম’ বা ইজিএসএম ব্যান্ডের সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতে গত জুনে অপারেটরদের অতিরিক্ত লোয়ার-ব্যান্ড তরঙ্গ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি বিটিআরসি ই-জিএসএম ব্যান্ডের তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য চূড়ান্ত করতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে কম ইন্টারফেরেন্সযুক্ত ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য প্রতি মেগাহার্টজে ২১৪ কোটি টাকা এবং বেশি ইন্টারফেরেন্সযুক্ত ৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য ১৭৮ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ১৫ বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর আগে দাম নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় এবার নির্দিষ্ট দাম উল্লেখ করে পুনরায় অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে কমিশন।

এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিটিআরসিকে দেওয়া চিঠিতে নিলাম পেছানোর অনুরোধ জানায় বাংলালিংক। অপারেটরটির মতে, সরকার বর্তমানে নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করছে, যা সংযোগ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে বড় সিদ্ধান্ত নিলে তা ভবিষ্যতের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, তারা ইজিএসএম স্পেকট্রামের কার্যকর ব্যবহারের পক্ষে। তবে আগামী নভেম্বরে তরঙ্গ নবায়ন এবং টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যেখানে তরঙ্গ ভাগাভাগি ও এমভিএনও-এর মতো বিষয়গুলো আসতে পারে। তাই নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

এর বিপরীতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিটিআরসিকে চিঠি দেয় রবি। তারা জানায়, গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করতে ই-জিএসএম তরঙ্গ দ্রুত উন্মুক্ত ও বরাদ্দ করা প্রয়োজন। নীতিমালার সঙ্গে এই বরাদ্দের কোনো সরাসরি বাধ্যবাধকতা নেই বলেও তারা উল্লেখ করে। রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, তরঙ্গের চাহিদা অপারেটরভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং তরঙ্গ না নেওয়ার স্বাধীনতা যেকোনো অপারেটরের আছে। তবে রবির গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে তরঙ্গের প্রয়োজনীয়তা থাকায় তারা বিটিআরসিকে দ্রুত নিলামের অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানান, টেলিযোগাযোগ নীতিমালার সঙ্গে তরঙ্গ নিলামের কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রণালয় থেকে তরঙ্গের ভিত্তিমূল্যের অনুমোদন পেলেই নিলামের আয়োজন করা হবে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৯ কোটির বেশি মুঠোফোন গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৭২ লাখ, রবির প্রায় ৬ কোটি এবং বাংলালিংকের গ্রাহকসংখ্যা ৩ কোটি ৭৯ লাখের বেশি। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটকও সেবা দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo