পূজা বন্ধের হুমকি নয়, উত্তরায় ২০২৪ সালের স্থান পরিবর্তনের মিছিল
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দুর্গাপূজা বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে প্রথম আলো ফ্যাক্টচেক। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের এবং এটি ঢাকার উত্তরার একটি ঘটনা। ওই দিন উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে দুর্গাপূজার আয়োজন না করে অন্য কোনো স্থানে মণ্ডপ সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি মিছিল করেছিলেন। সেই পুরোনো ভিডিওটিকেই এখন পূজা বন্ধের হুমকি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে একদল মানুষকে ‘১৩ নম্বরের মাঠে, পূজা হতে দেব না’, ‘ঈদগাহের মাঠে, পূজা হতে দেব না’, ‘মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকে দাবি করছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজা না করার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্যাপশনে এটিকে ‘ইসলামিক জেহাদিদের’ হুমকি বলেও প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করা পর্যন্ত অন্তত ৪০টি ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে এই বিভ্রান্তিকর দাবিটি ছড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ‘জয় সনাতন’ নামের একটি পেজ থেকে শেয়ার করা ভিডিওটি ৭ লাখ ১৩ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং এতে ১৬ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, ২ হাজার ২০০ বার শেয়ার ও প্রায় ৪ হাজার মন্তব্য পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা ভেবে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। সুধাময় বিশ্বাস নামের একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ধর্ম যার যার হলেও অধিকার সবার এবং পূজা বন্ধের হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না। অন্যদিকে, শেখ সেলিম নামের আরেকজন মন্তব্য করেছেন, মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী চললেও অন্য ধর্মে বাধা দেওয়া উচিত নয়, তবে ঈদগাহ মাঠে কেন পূজা হবে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের কল্যাণ সমিতির মাঠে বা ঈদগাহ মাঠে পূজার আয়োজন না করার দাবিতে এলাকাবাসী এই মিছিল করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া নির্ধারিত স্থানেই যেন পূজার আয়োজন করা হয়। সে সময় এই ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।
ওই বছর দুর্গাপূজার স্থান নির্ধারণ নিয়ে উত্তরার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রথমে ১১ নম্বর সেক্টরে পূজার পরিকল্পনা করা হলেও স্থানীয়দের আপত্তির মুখে তা ১৩ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানেও স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানিয়ে মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণিতে (মুগ্ধ চত্বর) দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় এবং সেখানেই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে, দুই বছরের পুরোনো একটি স্থান পরিবর্তনের দাবির মিছিলকে বর্তমানে পূজা বন্ধের প্রকাশ্য হুমকি হিসেবে ভুল প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হচ্ছে।
























