ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের প্রবাসী কামরুলের মৃত্যু নাইট ক্লাবে সাদ-সোহেল, তদন্তের ঘোষণা দিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ সচিবালয়ে নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ৯ সিদ্ধান্ত রাজধানীর টিকাটুলিতে দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারালেন নারী চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের মার্কেটের আগুন ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ উদযাপনে জামায়াত-পূজা কমিটির মতবিনিময় ইলহান ওমরের বাড়িতে মার্কিন অভিবাসন বিভাগের তল্লাশি সরকারবিরোধী চক্রান্তের মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে আহসান মঞ্জিলের ৫ সিন্দুক: ৩টির রহস্য এখনো অমীমাংসিত ডেঙ্গুতে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ছাড়াল এক লাখ

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস: শিক্ষায় অগ্রগতি ও ঝরে পড়ার উদ্বেগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, ‘জাতীয় কন্যা শিশু দিবস’। দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় কন্যাশিশুদের অবস্থান পর্যালোচনা করলে একদিকে যেমন অভূতপূর্ব অগ্রগতির চিত্র ফুটে ওঠে, তেমনি মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের ঝরে পড়ার উচ্চ হার এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং উপবৃত্তি চালুর ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে প্রায় সমতাও অর্জিত হয়েছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে পা রাখার পরই বিপুলসংখ্যক কন্যাশিশু পড়াশোনা ধরে রাখতে পারছে না।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার ৩০.৬৩ শতাংশ হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার অনেক বেশি—প্রায় ৩৪.৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রাথমিক স্তরে মেয়েরা ভালো অবস্থানে থাকলেও মাধ্যমিকে এসে একটি বড় অংশ ঝরে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝরে পড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হলো বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মেয়েই বাল্যবিবাহের নির্মম শিকারে পরিণত হয়ে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের অভিমত, কেবল বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; তাদের শিক্ষাজীবন স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখতে এবং নিরাপদ পরিবেশ উপহার দিতে হলে বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। কারণ, কন্যাশিশুর সঠিক শিক্ষা কেবল একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো জাতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস: শিক্ষায় অগ্রগতি ও ঝরে পড়ার উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, ‘জাতীয় কন্যা শিশু দিবস’। দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় কন্যাশিশুদের অবস্থান পর্যালোচনা করলে একদিকে যেমন অভূতপূর্ব অগ্রগতির চিত্র ফুটে ওঠে, তেমনি মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের ঝরে পড়ার উচ্চ হার এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং উপবৃত্তি চালুর ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে প্রায় সমতাও অর্জিত হয়েছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে পা রাখার পরই বিপুলসংখ্যক কন্যাশিশু পড়াশোনা ধরে রাখতে পারছে না।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার ৩০.৬৩ শতাংশ হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার অনেক বেশি—প্রায় ৩৪.৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রাথমিক স্তরে মেয়েরা ভালো অবস্থানে থাকলেও মাধ্যমিকে এসে একটি বড় অংশ ঝরে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝরে পড়ার পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হলো বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মেয়েই বাল্যবিবাহের নির্মম শিকারে পরিণত হয়ে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের অভিমত, কেবল বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; তাদের শিক্ষাজীবন স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখতে এবং নিরাপদ পরিবেশ উপহার দিতে হলে বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। কারণ, কন্যাশিশুর সঠিক শিক্ষা কেবল একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো জাতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin