জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়া, প্রভাব সবজির বাজারে
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর থেকেই এর প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে। এখন থেকে ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। রাত থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে যশোর ও বেনাপোল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
যশোরের বারীনগর পাইকারি সবজির মোকাম থেকে সোমবার ১৫টি ট্রাকে সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় দূরত্ব অনুযায়ী তাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। আতিয়ার রহমান নামের একজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, তিনি পাঁচ টনের ট্রাকে করে সবজি ঢাকায় পাঠাতে গিয়ে আগের দিনের চেয়ে এক হাজার টাকা বেশি ভাড়া দিয়েছেন। যশোর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ট্রাকভাড়া ১৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আতিয়ার রহমান আরও বলেন, রোববার বারীনগর বাজার থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে পটোল কিনে ঢাকার যাত্রাবাড়ী মোকামে ৩২ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। পরিবহন খরচ ও অন্যান্য কারণে প্রতি কেজিতে ৭ থেকে ৮ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। ঢাকায় সবজির সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতাদের হাতে টাকা না থাকায় দাম বাড়ছে না, ফলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সোমবার এই মোকাম থেকে শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, ভোলা, বরগুনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১৫ ট্রাক সবজি পাঠানো হয়।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে বেনাপোল স্থলবন্দরেও। সেখানে পণ্য পরিবহনের ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অর্পা-অপ্সরা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান জানান, সোমবার বেনাপোল থেকে সাড়ে ১০ টনের একটি কাভার্ড ভ্যানে তৈরি পোশাক ঢাকার কাঁচপুরে নিতে ২২ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যা গত শনিবার ছিল ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে তিন থেকে চার হাজার টাকা। এছাড়া ১২ টনের খোলা ট্রাকে পণ্য নিতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
পরিবহন খাতে এই বাড়তি ব্যয় সরাসরি নিত্যপণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।


























