ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাকরির বেতন ও বাসা ভাড়া নির্ধারণে মানুষের হয়ে লড়বে এআই বেতাগীতে অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ৯৯ বছর বয়সে বিমানের ডানায় দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন হেলগা পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অভিযান, তদন্তের আশ্বাস ডিবি প্রধানের মা ইলিশ রক্ষায় ১১১ সংসদ সদস্যকে মৎস্যমন্ত্রীর ডিও লেটার সাতক্ষীরায় হাসপাতালে ঢুকে পিটুনি, চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২০৮৮ রোগী কুয়েতের গৃহকর্মীর ৮৬.১ শতাংশই বাংলাদেশসহ এশিয়ার ৪ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ

চট্টগ্রামে দুই ভবনের ক্ষতিপূরণে দ্বিগুণ তফাত, পুনর্মূল্যায়নের দাবি সিডিএর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় একটি খালের প্রশস্ততা বাড়াতে পাশাপাশি দুটি ১০ তলা ভবন ভাঙতে হচ্ছে। তবে এই দুই ভবনের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে। তুলনামূলক পুরোনো ও কম আয়তনের একটি ভবনের মূল্য ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অথচ তার পাশেই অবস্থিত নতুন ও বড় আয়তনের অন্য ভবনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় অর্ধেক—৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের এই অস্বাভাবিক পার্থক্যের বিষয়টি নজরে আসার পর তা পুনর্মূল্যায়নের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ বিষয়ে গত ১২ আগস্ট গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন সিডিএর চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মোট ৩৬টি খালের কাজ রয়েছে। এর মধ্যে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় হিজড়া খালের বর্তমান ১২ ফুট প্রশস্ততা বাড়িয়ে ২৭ ফুট করা হবে। খালের পাশে হবে ১৫ ফুট চওড়া একটি সড়ক। এই কাজের জন্য কাতালগঞ্জের ‘কনকচাঁপা’ ও ‘বাদশা নূরী’ নামের দুটি ১০ তলা ভবন অপসারণ করতে হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ জেলা প্রশাসন করলেও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে গণপূর্ত বিভাগ।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্মিত কনকচাঁপা ভবনে ২৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মোট আয়তন ৫৪ হাজার ২৭৫ বর্গফুট। গণপূর্ত বিভাগ এর মূল্য ধরেছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০১৩ সালে নির্মিত পাশের বাদশা নূরী ভবনটি তুলনামূলক নতুন এবং এর ৩৬টি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৫৮ হাজার ২০০ বর্গফুট। আয়তনে বড় হওয়া সত্ত্বেও এই ভবনের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। দুই ভবনের মূল্যের ব্যবধান ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি।

আইন অনুযায়ী, স্থাপনার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। সেই হিসাবে কনকচাঁপা ভবনের জন্য প্রায় ৩৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং বাদশা নূরী ভবনের জন্য প্রায় ১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অর্থাৎ দুটি ভবনের জন্যই সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। অথচ প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরের প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভবনের ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬৭ কোটি টাকা। শুধু দুটি ভবনেই এত বিশাল অর্থ চলে গেলে প্রকল্পের বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিডিএর প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিন বলেন, দুটি ভবনের মূল্যায়নে বড় ধরনের পার্থক্য থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর গণপূর্ত বিভাগ ও can মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। বর্তমান নির্ধারিত মূল্যে ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে প্রকল্পের বাজেটে ঘাটতি দেখা দেবে।

মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পার্থক্যের বিষয়ে সিডিএর চিঠিতে বলা হয়েছে, কনকচাঁপা ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের জন্য পৃথকভাবে মূল্য ধরা হয়েছে। একই ধরনের ফ্ল্যাটের কোথাও ৭৬ লাখ টাকা ধরা হলেও কোনোটির মূল্য ৮৩ লাখ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে বাদশা নূরী ভবনের ৩৬টি ফ্ল্যাটের আলাদা মূল্যায়ন না করে পুরো ভবনের মূল্য একসঙ্গে ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

এছাড়া কনকচাঁপা ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিডিএ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের যৌথ পরিদর্শনে দেখা যায়, নথিতে চারটি সেন্ট্রিফিউগাল পাম্পের কথা থাকলেও বাস্তবে আছে একটি। ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার উল্লেখ থাকলেও ১৪টি উধাও। এছাড়া ২৫টি টেলিফোন সেটসহ পিএবিএক্স সিস্টেমের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এসব অনুপস্থিত সরঞ্জামের মূল্য কীভাবে মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিডিএ।

এসব অভিযোগের বিপরীতে গণপূর্ত বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর রাশেদুল করিম জানান, সিডিএর অনুরোধে তাদের চলমান রেট শিডিউল অনুযায়ী স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ভবনটির মোট আয়তন, নির্মাণ সাল ও মালিকের দেওয়া নকশা বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারিত হয়েছে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের দাবি, নকশার ভিত্তিতেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এতে কোনো ভুল বা ত্রুটি নেই। সিডিএর আপত্তির পর তারা পুনরায় যাচাই করে কোনো অসঙ্গতি পাননি। পুনর্মূল্যায়নের জন্য কিছু তথ্য চাওয়া হলেও সিডিএ তা দেয়নি। উপসহকারী প্রকৌশলী মনোজ দে জানান, সিডিএ বাদশা নূরী ভবনের বিষয়ে কোনো আপত্তি দেয়নি, কেবল কনকচাঁপা ভবনের বিষয়ে দিয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, গণপূর্তের নির্ধারণ করা মূল্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা হয়, তবে কাতালগঞ্জের এই দুটি ভবনের বিষয়ে এখনো তাঁর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

এর আগেও এমন অস্বাভাবিক মূল্যায়নের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সিডিএ। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় একটি একতলা ভবন ও সীমানাদেয়ালের মূল্য প্রথমে ৫৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। সিডিএর আপত্তির পর পুনর্মূল্যায়নে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ৪৯ লাখ টাকা কমে যায়।

সিডিএর চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, 'একই ধরনের দুটি ভবনের একটির মূল্য ১৮ কোটি আর অন্যটির ৯ কোটি টাকা কীভাবে হয় তা মানা যায় না। সরকারের এত টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হলে তা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করবে। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয় ও গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।' তিনি আরও বলেন, গণপূর্ত বিভাগ যদি বর্তমান মূল্যায়ন পুনর্বিবেচনা না করে, তবে তারা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে দুই ভবনের ক্ষতিপূরণে দ্বিগুণ তফাত, পুনর্মূল্যায়নের দাবি সিডিএর

আপডেট সময় : ১২:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় একটি খালের প্রশস্ততা বাড়াতে পাশাপাশি দুটি ১০ তলা ভবন ভাঙতে হচ্ছে। তবে এই দুই ভবনের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে। তুলনামূলক পুরোনো ও কম আয়তনের একটি ভবনের মূল্য ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অথচ তার পাশেই অবস্থিত নতুন ও বড় আয়তনের অন্য ভবনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় অর্ধেক—৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের এই অস্বাভাবিক পার্থক্যের বিষয়টি নজরে আসার পর তা পুনর্মূল্যায়নের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ বিষয়ে গত ১২ আগস্ট গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন সিডিএর চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন। তবে গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে মোট ৩৬টি খালের কাজ রয়েছে। এর মধ্যে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় হিজড়া খালের বর্তমান ১২ ফুট প্রশস্ততা বাড়িয়ে ২৭ ফুট করা হবে। খালের পাশে হবে ১৫ ফুট চওড়া একটি সড়ক। এই কাজের জন্য কাতালগঞ্জের ‘কনকচাঁপা’ ও ‘বাদশা নূরী’ নামের দুটি ১০ তলা ভবন অপসারণ করতে হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ জেলা প্রশাসন করলেও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে গণপূর্ত বিভাগ।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্মিত কনকচাঁপা ভবনে ২৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মোট আয়তন ৫৪ হাজার ২৭৫ বর্গফুট। গণপূর্ত বিভাগ এর মূল্য ধরেছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০১৩ সালে নির্মিত পাশের বাদশা নূরী ভবনটি তুলনামূলক নতুন এবং এর ৩৬টি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৫৮ হাজার ২০০ বর্গফুট। আয়তনে বড় হওয়া সত্ত্বেও এই ভবনের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। দুই ভবনের মূল্যের ব্যবধান ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি।

আইন অনুযায়ী, স্থাপনার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। সেই হিসাবে কনকচাঁপা ভবনের জন্য প্রায় ৩৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং বাদশা নূরী ভবনের জন্য প্রায় ১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অর্থাৎ দুটি ভবনের জন্যই সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। অথচ প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরের প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভবনের ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬৭ কোটি টাকা। শুধু দুটি ভবনেই এত বিশাল অর্থ চলে গেলে প্রকল্পের বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিডিএর প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিন বলেন, দুটি ভবনের মূল্যায়নে বড় ধরনের পার্থক্য থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর গণপূর্ত বিভাগ ও can মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। বর্তমান নির্ধারিত মূল্যে ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে প্রকল্পের বাজেটে ঘাটতি দেখা দেবে।

মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পার্থক্যের বিষয়ে সিডিএর চিঠিতে বলা হয়েছে, কনকচাঁপা ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের জন্য পৃথকভাবে মূল্য ধরা হয়েছে। একই ধরনের ফ্ল্যাটের কোথাও ৭৬ লাখ টাকা ধরা হলেও কোনোটির মূল্য ৮৩ লাখ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে বাদশা নূরী ভবনের ৩৬টি ফ্ল্যাটের আলাদা মূল্যায়ন না করে পুরো ভবনের মূল্য একসঙ্গে ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

এছাড়া কনকচাঁপা ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিডিএ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের যৌথ পরিদর্শনে দেখা যায়, নথিতে চারটি সেন্ট্রিফিউগাল পাম্পের কথা থাকলেও বাস্তবে আছে একটি। ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার উল্লেখ থাকলেও ১৪টি উধাও। এছাড়া ২৫টি টেলিফোন সেটসহ পিএবিএক্স সিস্টেমের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এসব অনুপস্থিত সরঞ্জামের মূল্য কীভাবে মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিডিএ।

এসব অভিযোগের বিপরীতে গণপূর্ত বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর রাশেদুল করিম জানান, সিডিএর অনুরোধে তাদের চলমান রেট শিডিউল অনুযায়ী স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ভবনটির মোট আয়তন, নির্মাণ সাল ও মালিকের দেওয়া নকশা বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারিত হয়েছে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের দাবি, নকশার ভিত্তিতেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এতে কোনো ভুল বা ত্রুটি নেই। সিডিএর আপত্তির পর তারা পুনরায় যাচাই করে কোনো অসঙ্গতি পাননি। পুনর্মূল্যায়নের জন্য কিছু তথ্য চাওয়া হলেও সিডিএ তা দেয়নি। উপসহকারী প্রকৌশলী মনোজ দে জানান, সিডিএ বাদশা নূরী ভবনের বিষয়ে কোনো আপত্তি দেয়নি, কেবল কনকচাঁপা ভবনের বিষয়ে দিয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, গণপূর্তের নির্ধারণ করা মূল্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা হয়, তবে কাতালগঞ্জের এই দুটি ভবনের বিষয়ে এখনো তাঁর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

এর আগেও এমন অস্বাভাবিক মূল্যায়নের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সিডিএ। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় একটি একতলা ভবন ও সীমানাদেয়ালের মূল্য প্রথমে ৫৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। সিডিএর আপত্তির পর পুনর্মূল্যায়নে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ৪৯ লাখ টাকা কমে যায়।

সিডিএর চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, 'একই ধরনের দুটি ভবনের একটির মূল্য ১৮ কোটি আর অন্যটির ৯ কোটি টাকা কীভাবে হয় তা মানা যায় না। সরকারের এত টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হলে তা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করবে। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয় ও গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।' তিনি আরও বলেন, গণপূর্ত বিভাগ যদি বর্তমান মূল্যায়ন পুনর্বিবেচনা না করে, তবে তারা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo