সাগরে লঘুচাপ: ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা, সতর্ক আবহাওয়া অধিদপ্তর
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

থাইল্যান্ড ও আশপাশের স্থলভাগ থেকে একটি ঘূর্ণাবর্ত পশ্চিম দিকে সরে এসে উত্তর আন্দামান সাগরে প্রবেশের পর শনিবার রাতে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরিবেশ অনুকূল থাকলে এটি ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপটি আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে যেতে পারে। তবে এটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি অর্জন করবে বা আদৌ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, বর্তমান গাণিতিক মডেল অনুযায়ী বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর এর গতিপথ ও গতিবিধি আরও স্পষ্ট হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার সতর্ক অবস্থানে থাকে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক আরও জানান, যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় তবে ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি তৈরি হয়ে ভারতেই আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে দেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে এলে সরাসরি ১ ও ২ নম্বর থেকে ৪ নম্বর সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এরপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় ও উপকূলীয় জেলা প্রশাসকদের নিয়ে জরুরি সভা ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে রবি ও সোমবার সারা দেশে বৃষ্টিপাত কমে ভ্যাপসা গরম বাড়তে পারে। তবে মঙ্গলবার থেকে উপকূলীয় এলাকায় এবং ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এ সময় রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বৃষ্টি হয়েছে ৫ মিলিমিটার। এছাড়া দুপুরের পর বান্দরবানে সর্বোচ্চ ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উত্তর ওড়িশা ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সিস্টেমটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এ সময় সমুদ্র উত্তাল থাকবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রয়েছে, যা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল। তবে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ারের কারণে সিস্টেমটির ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, উত্তর ওড়িশা ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২৫-২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেমটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এ সময় সমুদ্র উত্তাল থাকবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।



























