বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অলি আহমদ
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩৯। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-টু-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
অলি আহমদ বলেন, সরকার হ্যাঁ ভোট চেয়েছিল এবং তারাও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে এবং ১১ দল মির্জাফরের খাতায় নাম লেখাবে না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও ভোট দিয়েছে। বর্তমান সরকার ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এলেও গণভোটে হ্যাঁ বেলট বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ছিল গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কিন্তু সরকার শপথ গ্রহণের শুরুতেই এই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, তারা আশা করেছিলেন তারেক রহমানের পরিকল্পনা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার চেয়েও উন্নত হবে, কিন্তু বর্তমান মন্ত্রিসভা বিএনপির নয় বরং এটি ভারত ও হাসিনার মন্ত্রিসভা। তিনি ১১ দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকারের মুখপাত্রের বক্তব্যের সূত্র ধরে অলি আহমদ বলেন, তারা নির্বাচনের বিলম্ব এড়াতে গণভোট ও জুলাই সনদ মেনে নেওয়ার ভান করেছিল, যা তাদের আন্তরিকতাহীনতার প্রমাণ। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ কমে যাবে এবং প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে দলীয়করণ করা সম্ভব হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ লুটপাটের সুযোগ বন্ধ করতে এই রায় কার্যকর করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে অলি আহমদ ঘোষণা দেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ সব সংকটের সমাধান গণভোটের রায় বাস্তবায়নেই নিহিত। ১১ দলের পক্ষ থেকে যদি আট দফার পরিবর্তে এক দফার ডাক দিয়ে ঢাকার দিকে লংমার্চের আহ্বান জানানো হয়, তবে তার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।




























