ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ব্যক্তিগত খরচে মির্জাপুরের ৬২ গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করলেন বিএনপি নেতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের জরাজীর্ণ ৬২টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার সিকদার। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২৬ মিনিটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোনো জনপ্রতিনিধি না হয়েও গত তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এসব রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে স্থানীয় গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদামাটিতে ভরা পথ, খানাখন্দ আর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন গ্রামবাসী। বিশেষ করে কোনো অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে ভোগান্তির সীমা থাকত না। অনেক সময় গ্রামে কোনো যানবাহনও প্রবেশ করতে পারত না। মানুষের এই অবর্ণনীয় কষ্ট দূর করতে কোনো সরকারি বরাদ্দ বা সংগঠনের অর্থায়ন ছাড়াই এগিয়ে আসেন মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার।

গত তিন বছরে বহুরিয়া ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের ৬২টি সড়কে নিজের অর্থায়নে ভাঙা ইট ফেলে সংস্কার কাজ করিয়েছেন তিনি। এই কাজে তার নিজের ইটভাটা থেকে প্রায় তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাক ভাঙা ইট ব্যবহার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। বর্ষাকালে কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে খবর দেন। আর খবর পাওয়া মাত্রই তার ইটভাটা থেকে ইটের গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মানুষের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য তার ভাটায় সবসময়ই ভাঙা ইট আলাদাভাবে মজুত রাখা হয়।

দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, এলাকায় সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মানুষের দুর্ভোগ দূর করায় এই বিএনপি নেতা এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। শুধু রাস্তাঘাট সংস্কারই নয়, বিপদে-আপদেও তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান।

বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দক্ষিণ মির্জাপুরে, বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। সরকারিভাবে যেটুকু বরাদ্দ এসেছে, তা লুটপাট করে নিজেদের পকেট ভারী করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিপরীতে ছাত্তার সিকদার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার সিকদার জানান, তিনি নিজের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন এবং গত তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও আজীবন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যক্তিগত খরচে মির্জাপুরের ৬২ গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করলেন বিএনপি নেতা

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের জরাজীর্ণ ৬২টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার সিকদার। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২৬ মিনিটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোনো জনপ্রতিনিধি না হয়েও গত তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এসব রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে স্থানীয় গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদামাটিতে ভরা পথ, খানাখন্দ আর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন গ্রামবাসী। বিশেষ করে কোনো অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে ভোগান্তির সীমা থাকত না। অনেক সময় গ্রামে কোনো যানবাহনও প্রবেশ করতে পারত না। মানুষের এই অবর্ণনীয় কষ্ট দূর করতে কোনো সরকারি বরাদ্দ বা সংগঠনের অর্থায়ন ছাড়াই এগিয়ে আসেন মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার।

গত তিন বছরে বহুরিয়া ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের ৬২টি সড়কে নিজের অর্থায়নে ভাঙা ইট ফেলে সংস্কার কাজ করিয়েছেন তিনি। এই কাজে তার নিজের ইটভাটা থেকে প্রায় তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাক ভাঙা ইট ব্যবহার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। বর্ষাকালে কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে খবর দেন। আর খবর পাওয়া মাত্রই তার ইটভাটা থেকে ইটের গাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মানুষের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য তার ভাটায় সবসময়ই ভাঙা ইট আলাদাভাবে মজুত রাখা হয়।

দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, এলাকায় সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মানুষের দুর্ভোগ দূর করায় এই বিএনপি নেতা এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। শুধু রাস্তাঘাট সংস্কারই নয়, বিপদে-আপদেও তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান।

বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দক্ষিণ মির্জাপুরে, বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। সরকারিভাবে যেটুকু বরাদ্দ এসেছে, তা লুটপাট করে নিজেদের পকেট ভারী করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিপরীতে ছাত্তার সিকদার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুস ছাত্তার সিকদার জানান, তিনি নিজের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন এবং গত তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও আজীবন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh