সিলেটে তিন প্রবাসীকে বিএনপির উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত
- আপডেট সময় : ১২:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে তিন ‘অচেনা’ প্রবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। তীব্র আপত্তি, সমালোচনা এবং দলীয় গঠনতন্ত্র অমান্য করার কারণে ঘোষণার মাত্র চার দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছে সিলেট মহানগর নেতৃত্ব। উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা ওই তিন প্রবাসী হলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ফয়ছল আহমদ ও মোহাম্মদ হুমায়ুন মিলাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফুর হারুন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁদের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি জানিয়েছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, যাঁদের উপদেষ্টা করা হয়েছে, তাঁরা দলীয় রাজনীতিতে একেবারেই ‘অচেনা’ এবং কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়াই অগঠনতান্ত্রিকভাবে তাঁদের এই পদে বসানো হয়েছিল।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে মহাসচিব মহানগর নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দিয়ে থাকেন। স্থানীয়ভাবে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের পদের অনুমোদন দেওয়ার কোনো সাংগঠনিক সুযোগ নেই। এছাড়া দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ওই তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন জানান, উপদেষ্টা পরিষদের তিনজনকে সংযোজনের বিজ্ঞপ্তিটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এর গঠনপ্রক্রিয়া যথাযথ ছিল না বলেও তিনি স্বীকার করেন।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিএনপির নেতা এবং সিলেটের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপদেষ্টা পদে মনোনীত হওয়া তিনজনের কেউই রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নন। যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, ফয়ছল আহমদ জাসাসের একটি পদে থাকলেও যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নন এবং মোহাম্মদ হুমায়ুনকে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা চেনেন না। ফলে এ নিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপিতেও সমালোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফুর হারুনের বিষয়েও স্থানীয় বা প্রবাসী কোনো নেতাই স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে থেকে কীভাবে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের উপদেশ দেবেন, তা নিয়ে তিনি সাংগঠনিক সভায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত মহানগর বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছসহ আরও কয়েকজন নেতা। কেন্দ্রকে না জানিয়ে এভাবে প্রবাসীদের উপদেষ্টা করায় সভায় ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়।
সিলেট মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ২০২৩ সালের ১০ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়। এতে নাসিম হোসাইন সভাপতি, ইমদাদ হোসেন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক এবং সৈয়দ সাফেক মাহবুব সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নাসিম হোসাইনকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ১৭০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র, যেখানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। পরে চলতি বছরের ৬ আগস্ট নাসিম হোসাইনকে আবার স্বপদে বহাল করা হয়। কয়েস লোদী ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর দায়িত্ব পালনকালে গত জুন মাসে প্রথমবারের মতো ৫৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল, যা কেন্দ্রকে অবহিত করেই করা হয়েছিল বলে জানান কয়েস লোদী।




























