ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

একই ছবি দিয়ে ৯৩টি জাল এনআইডি তৈরি, নেত্রকোনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় অভিনব কৌশলে একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ৯৩টি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১)। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামের বাসিন্দা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনায় তিনি মূলত তার স্ত্রীর কাছে এসেছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে রবিউলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রবিউল ইসলাম ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার উদ্দেশ্যে দত্ত মার্কেটের ওই দোকানে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ডিবির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, রবিউলের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাতটি প্রিন্ট করা এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সব কটি এনআইডিতে একই ব্যক্তির ছবি রয়েছে, যেখানে শুধু শার্টের রঙ ভিন্ন দেখা যায়। এছাড়া কাগজের ওপর প্রিন্ট করা আরও ছয়টি এনআইডির পেছনের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোতে একই ছবি ব্যবহার করে আলাদা আলাদা ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরে রবিউলের মুঠোফোন জব্দ করে পরীক্ষা করা হলে সেখানে আরও ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়া যায়। সেগুলোতেও ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী রানাকে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, একজনের একাধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই। ডাবল এন্ট্রি হলেই তা নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ে এবং তখন কমিশনের পক্ষ থেকে জালিয়াতির মামলা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ওই তরুণ যে কাজটি করেছেন, সেজন্য তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হতে পারে। অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃত করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কমিশনে কর্মরত কেউ এই অপরাধ করলে তার জন্য এক ধরনের শাস্তি, আর সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে করলে তার শাস্তি ভিন্নতর। যে ধারায় মামলাটি হয়েছে, তাতে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭টি জাল এনআইডি, ৬টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

একই ছবি দিয়ে ৯৩টি জাল এনআইডি তৈরি, নেত্রকোনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় অভিনব কৌশলে একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ৯৩টি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১)। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামের বাসিন্দা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনায় তিনি মূলত তার স্ত্রীর কাছে এসেছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে রবিউলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রবিউল ইসলাম ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার উদ্দেশ্যে দত্ত মার্কেটের ওই দোকানে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ডিবির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, রবিউলের কাছ থেকে উদ্ধার করা সাতটি প্রিন্ট করা এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সব কটি এনআইডিতে একই ব্যক্তির ছবি রয়েছে, যেখানে শুধু শার্টের রঙ ভিন্ন দেখা যায়। এছাড়া কাগজের ওপর প্রিন্ট করা আরও ছয়টি এনআইডির পেছনের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোতে একই ছবি ব্যবহার করে আলাদা আলাদা ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। পরে রবিউলের মুঠোফোন জব্দ করে পরীক্ষা করা হলে সেখানে আরও ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়া যায়। সেগুলোতেও ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী রানাকে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, একজনের একাধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই। ডাবল এন্ট্রি হলেই তা নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ে এবং তখন কমিশনের পক্ষ থেকে জালিয়াতির মামলা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ওই তরুণ যে কাজটি করেছেন, সেজন্য তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হতে পারে। অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃত করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। কমিশনে কর্মরত কেউ এই অপরাধ করলে তার জন্য এক ধরনের শাস্তি, আর সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে করলে তার শাস্তি ভিন্নতর। যে ধারায় মামলাটি হয়েছে, তাতে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৭টি জাল এনআইডি, ৬টি এনআইডির পেছনের অংশ এবং মুঠোফোনে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo