ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর পথেঘাটে ঘুমিয়ে কাটছে চর্মকার গোপাল দাসের জীবন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৫ বছর বয়সী চর্মকার গোপাল চন্দ্র দাসের এক করুণ চিত্র দেখা যায়। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে সড়কের পাশে আধশোয়া হয়ে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর মাথার ওপর ছায়ার জন্য টাঙানো পলিথিনটি বাতাসে উড়ে সরে গিয়েছিল এবং পায়ের কাছে পড়ে ছিল কয়েক জোড়া ছেঁড়া স্যান্ডেল, জুতা পলিশের কালির কৌটা ও কিছু ব্রাশ। ঘণ্টাখানেক পরেও তাঁকে একই অবস্থায় দেখা যায়, তবে সন্ধ্যার দিকে তিনি সেখান থেকে সরে যান।

পাশের চা–দোকানি মাজিদুল জানান, গোপাল সারা দিন জুতা মেরামত ও পলিশ করেন। এরপর মেরামত করা জুতা নিয়ে বিক্রির জন্য বের হন। পৈতৃক সূত্রেই গোপাল চর্মকার পেশায় যুক্ত। আগে কুমারপাড়া মোড়ে তাঁর মামা বসতেন, মামার মৃত্যুর পর গোপাল সেখানে বসতেন। কিন্তু পরে তাঁকে সেখান থেকে তুলে দেওয়া হয়। ফলে এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় বসতে পারেন না। গত দুই মাস ধরে তিনি মাজিদুলের দোকানের পাশে বসছেন। মাজিদুল বলেন, গোপালের কাজকাম মন্দা, বাজার চড়া হওয়ায় তিনি অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন।

গোপাল জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়। তিনি স্ত্রী ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়ে রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। মাসে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়িভাড়া দিতে হয় এবং মেয়েদের পড়াশোনার খরচও তাঁকেই জোগাতে হয়।

নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে গোপাল বলেন, 'ও দুঃখের ঘুম। খুব দুঃখ স্যার। দোকানডা লিয়্যা ভাইসে বেড়াচ্ছি।' তিনি জানান, মাস দুয়েক আগে তাঁর দোকানের সব মালামাল চুরি হয়ে গিয়েছিল, যা আবার নতুন করে কিনতে হয়েছে। পকেট থেকে দিনের রোজগার বের করে তিনি দেখান ২০০ টাকার দুটি নোট ও কিছু খুচরা টাকা। হাত কাঁপছিল আর চোখ ছলছল করছিল তাঁর। তিনি বলেন, 'এই দিয়্যা আজকের দিনে বাজার হয় স্যার!'

জুতা পলিশের সময় ন্যাকড়া না থাকায় গোপাল নিজের পরনের পরিষ্কার লুঙ্গির অংশ দিয়ে খুব যত্নে জুতার চারপাশ মুছতে শুরু করেন। তাঁর এ সরল আচরণে মনে হয়, এই পেশাটি তাঁর জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তিনি নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহীর পথেঘাটে ঘুমিয়ে কাটছে চর্মকার গোপাল দাসের জীবন

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৫ বছর বয়সী চর্মকার গোপাল চন্দ্র দাসের এক করুণ চিত্র দেখা যায়। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে সড়কের পাশে আধশোয়া হয়ে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর মাথার ওপর ছায়ার জন্য টাঙানো পলিথিনটি বাতাসে উড়ে সরে গিয়েছিল এবং পায়ের কাছে পড়ে ছিল কয়েক জোড়া ছেঁড়া স্যান্ডেল, জুতা পলিশের কালির কৌটা ও কিছু ব্রাশ। ঘণ্টাখানেক পরেও তাঁকে একই অবস্থায় দেখা যায়, তবে সন্ধ্যার দিকে তিনি সেখান থেকে সরে যান।

পাশের চা–দোকানি মাজিদুল জানান, গোপাল সারা দিন জুতা মেরামত ও পলিশ করেন। এরপর মেরামত করা জুতা নিয়ে বিক্রির জন্য বের হন। পৈতৃক সূত্রেই গোপাল চর্মকার পেশায় যুক্ত। আগে কুমারপাড়া মোড়ে তাঁর মামা বসতেন, মামার মৃত্যুর পর গোপাল সেখানে বসতেন। কিন্তু পরে তাঁকে সেখান থেকে তুলে দেওয়া হয়। ফলে এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় বসতে পারেন না। গত দুই মাস ধরে তিনি মাজিদুলের দোকানের পাশে বসছেন। মাজিদুল বলেন, গোপালের কাজকাম মন্দা, বাজার চড়া হওয়ায় তিনি অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছেন।

গোপাল জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়। তিনি স্ত্রী ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়ে রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। মাসে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়িভাড়া দিতে হয় এবং মেয়েদের পড়াশোনার খরচও তাঁকেই জোগাতে হয়।

নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে গোপাল বলেন, 'ও দুঃখের ঘুম। খুব দুঃখ স্যার। দোকানডা লিয়্যা ভাইসে বেড়াচ্ছি।' তিনি জানান, মাস দুয়েক আগে তাঁর দোকানের সব মালামাল চুরি হয়ে গিয়েছিল, যা আবার নতুন করে কিনতে হয়েছে। পকেট থেকে দিনের রোজগার বের করে তিনি দেখান ২০০ টাকার দুটি নোট ও কিছু খুচরা টাকা। হাত কাঁপছিল আর চোখ ছলছল করছিল তাঁর। তিনি বলেন, 'এই দিয়্যা আজকের দিনে বাজার হয় স্যার!'

জুতা পলিশের সময় ন্যাকড়া না থাকায় গোপাল নিজের পরনের পরিষ্কার লুঙ্গির অংশ দিয়ে খুব যত্নে জুতার চারপাশ মুছতে শুরু করেন। তাঁর এ সরল আচরণে মনে হয়, এই পেশাটি তাঁর জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তিনি নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo