ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: মৃত্যুর খবর যাচাই করছে প্রশাসন, মেলেনি প্রমাণ
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে সোমবার সন্ধ্যায় লাগা অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলিত হয়ে বা অন্য কোনোভাবে মৃত্যুর যে খবর ছড়িয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পায়নি প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিভিন্ন তালিকা ও তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। তিনি জানান, হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ছয়জন মারা যাওয়ার খবর প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রচার করা উচিত নয়, কারণ এটি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তালিকায় এমন কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। প্রশাসনের কাছে থাকা অন্য একটি তালিকা এবং মর্গের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
এরপর রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা বিভিন্ন তালিকা খতিয়ে দেখছেন এবং যাঁদের মৃত্যুর খবর ছড়ানো হচ্ছে, তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা ‘কনক্রিট এভিডেন্স’ পুলিশের হাতে আসেনি। গুজব বা শোনা কথার সূত্র ধরেই তাঁরা সরেজমিনে তদন্ত করছেন এবং নিশ্চিত তথ্য পেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পায়। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন বড় না হলেও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে ভবন থেকে দ্রুত বের হওয়ার ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও স্বজনরা। পুলিশ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভবনটিতে পাঁচটি সিঁড়ি থাকলেও মাত্র একটি খোলা ছিল এবং বাকি চারটি সিঁড়ি সব সময় তালাবদ্ধ রাখা হতো।
নগরের বাঁশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা দুলাল মিয়া জানান, তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগম হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি ছিলেন। আগুন লাগার পর সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে তাঁর দুই মেয়ে ও তিন নাতনি আহত হয়েছেন। ফুলবাড়িয়ার সাথী বেগমও একই অভিযোগ করে বলেন, সিঁড়ির কয়েকটি ফটক বন্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে পারছিলেন না। একটিমাত্র সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে অনেকেই আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় রাত ১০টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে বসেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। বৈঠক শেষে সোয়া ১০টার দিকে তাঁরা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।




























