ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: একই পরিবারের ৬ জনসহ নিহত ১০ একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিলের দাবিতে এনসিপির তিন দফা শারদীয় দুর্গাপূজায় বান্দরবানে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারি উখিয়ার রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু, একই পরিবারের ৮ মিষ্টির শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে জামানত ২০ হাজার টাকা ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৫ সাংবাদিক লুৎফুর জামান ফকির হত্যায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফেসবুকে মৃত্যুর পর প্রোফাইল: স্মারক না ডিলিট, সিদ্ধান্ত আপনার ভারত ও চীনের ওপর ১০০% শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও স্মারকগুলোকে সরিয়ে দিয়ে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন ইতিহাস তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। তিনি বলেন, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সোমবার রাতে প্রথম আলোর নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘বার্তাকক্ষে’ অংশ নিয়ে তিনি এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দাবি করেন।

সংগ্রহশালাটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো ছবি নেই, অথচ পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, ১৯৬৬ ও ১৯৬৯ সালের আন্দোলন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং রাজাকারদের তালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এসব ঐতিহাসিক স্মারক সরিয়ে ফেলা হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি থেকেই স্পষ্ট যে এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের অনুমোদন ছিল না। তিনি মনে করেন, ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হলেও এর মালিকানা ডাকসুর নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সিন্ডিকেটের।

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনার পর আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। পরে ছাত্র ফেডারেশনের কর্মীরা জিন্নাহর ছবির জায়গায় ১৯৮১ সালে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান। অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ডাকসু নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষকদের মূল্যায়ন ও রেটিং দেওয়ার ডাকসুর উদ্যোগ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। একে ‘প্যারালাল প্রশাসন’ তৈরির চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করার জন্য ফিডব্যাক ব্যবস্থা থাকা জরুরি হলেও তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত। ডাকসু যদি এই দায়িত্ব নেয়, তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষকদের নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে তিনি ‘প্রাইভেসির লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন

আপডেট সময় : ১২:০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও স্মারকগুলোকে সরিয়ে দিয়ে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন ইতিহাস তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। তিনি বলেন, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সোমবার রাতে প্রথম আলোর নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘বার্তাকক্ষে’ অংশ নিয়ে তিনি এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দাবি করেন।

সংগ্রহশালাটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো ছবি নেই, অথচ পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, ১৯৬৬ ও ১৯৬৯ সালের আন্দোলন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং রাজাকারদের তালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এসব ঐতিহাসিক স্মারক সরিয়ে ফেলা হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি থেকেই স্পষ্ট যে এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের অনুমোদন ছিল না। তিনি মনে করেন, ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হলেও এর মালিকানা ডাকসুর নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সিন্ডিকেটের।

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনার পর আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। পরে ছাত্র ফেডারেশনের কর্মীরা জিন্নাহর ছবির জায়গায় ১৯৮১ সালে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান। অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ডাকসু নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষকদের মূল্যায়ন ও রেটিং দেওয়ার ডাকসুর উদ্যোগ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। একে ‘প্যারালাল প্রশাসন’ তৈরির চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করার জন্য ফিডব্যাক ব্যবস্থা থাকা জরুরি হলেও তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত। ডাকসু যদি এই দায়িত্ব নেয়, তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষকদের নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে তিনি ‘প্রাইভেসির লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo