ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের জননীর অনশন
- আপডেট সময় : ০২:১৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক সন্তানের জননী সাবিনা ইয়াসমিন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে প্রেমিক সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছেন ওই গৃহবধূ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাবিনা ইয়াসমিন বিয়ের দাবিতে সিয়ামের বাড়িতে আসার পর প্রেমিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকেও সাবিনাকে সিয়ামের বাড়ির সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় জমান। দাবি আদায় না হলে সাবিনা ইয়াসমিন আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন।
সাবিনা ইয়াসমিন উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনি গাড়ি গ্রামের শফিকুলের স্ত্রী বলে জানা গেছে। সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিবের ছেলে। তিনি মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে মরহুম মোজা ব্যাপারীর নাতনি (সাবিনা) তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করেন। প্রতিবেশী সূত্রে তাঁদের মধ্যে পরিচয়ের পর গত প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সাবিনা ইয়াসমিনের দাবি, তিনি প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে স্বামী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে সংসার করছেন। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন। ভুক্তভোগী সাবিনা বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে সে আমার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। একদিন আমার প্রতিবেশী ভুট্টুম তাকে ঘরে দেখে ফেলেন। তখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ জানতে পারি, সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করতে ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের প্রবাসী সদরুল আলমের মেয়ের বাড়িতে গেছে। এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আমি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।
তবে সাবিনা ইয়াসমিনের এসব অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ১৫আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ১৮




























