ভোলার মেঘনায় নিখোঁজ বিজিবি সদস্যসহ ২ বন্ধু, মেলেনি সন্ধান
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২৪
ভোলার মেঘনা নদীর তীর ধসে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মো. আমজাদ (২৮) ও তাঁর বন্ধু মো. রাকিবের (২৬) কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
নিখোঁজ আমজাদ ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ি রোড এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে এবং রাকিব ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজার এলাকার সর্দার বাড়ির বাবুলের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যার পর আমজাদ ও রাকিবসহ পাঁচ বন্ধু ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মাছঘাট এলাকার ‘গরিবের দুবাই’ নামক স্থানে মেঘনা নদীর তীরে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীতীর রক্ষায় বসানো জিও ব্যাগসহ তীরের একটি অংশ আকস্মিকভাবে নদীতে ধসে পড়ে। এতে পাঁচজনই তীব্র স্রোতের মেঘনা নদীতে পড়ে যান। তাঁদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আমজাদ ও রাকিব তলিয়ে যান। বেঁচে যাওয়া বন্ধুদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত যৌথ অভিযান চালানোর পর আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দল নতুন করে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের খোঁজ মেলেনি।
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ আমজাদ চার বছর আগে বিজিবিতে যোগ দেন। ২ বছর আগে বিয়ে করা আমজাদের স্ত্রী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ২ মাসের ছুটিতে বাড়ি এসে বন্ধুদের নিয়ে প্রায়ই নদীর তীরে বেড়াতে যেতেন তিনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমজাদের বন্ধু ফাহিম জানান, আমজাদ সাঁতরে তীরে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু রাকিব সাঁতার না থাকায় সে আমজাদকে জড়িয়ে ধরে। এতে তীব্র স্রোতের টানে দুজনেই নদীর বুকে তলিয়ে যান।
নদীর তীরে নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আমজাদের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযান দেখতে সকাল থেকে নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো মানুষ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ডের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমজাদের চাচা হাফেজ মাওলানা ইয়াকুব। তিনি অভিযোগ করেন, নদীতে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব কোস্টগার্ডের হলেও তারা উদ্ধার অভিযানে আশানুরূপ সহযোগিতা করেনি।
তবে ভোলার ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও ডুবুরি দল সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

























