ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী দিল্লি পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন নেহা বোরা মোজাম্বিক থেকে ফেরার পথে বিমানে প্রাণ হারালেন বাঁশখালীর প্রবাসী সাজেক সড়কে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দশমিনায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলের কারাদণ্ড জনগণের কাছে স্থানীয় সরকার ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব রোববার সন্ধ্যায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: সিজেপি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা উপেক্ষা করায় পাকিস্তানের পরিণতি ভালো হয়নি: জামায়াত আমির

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ও ঐতিহ্যকে অবমূল্যায়ন করার নীতি শেষ পর্যন্ত দেশটির জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উপমহাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ একসময় অখণ্ড ভারতের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ভারত প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত হয়। তখন পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে আমরা পাকিস্তানের একটি প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। তবে ১৯৪৭ সালের সেই স্বাধীনতা হঠাৎ অর্জিত কোনো ঘটনা ছিল না। এর পেছনে জড়িয়ে ছিল দীর্ঘ ১৯০ বছরের বঞ্চনা, কান্না, নির্যাতন ও সীমাহীন ত্যাগের ইতিহাস। যারা এই জাতিকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুর্দশা থেকে মুক্ত করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ও গভীর ব্যবধান তৈরি হতে শুরু করে। তৎকালীন সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানে তিনটি প্রদেশ এবং পূর্ব পাকিস্তানে একটি প্রদেশ থাকলেও জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। এমনকি জাতীয় সংসদের আসনও জনসংখ্যার এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছিল।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিন্তু এত কিছুর পরও রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে একটি অহেতুক প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি করা হয়। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষাকে অবমূল্যায়ন করে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে তাদের সেই অবস্থান শেষ পর্যন্ত ভালো কোনো পরিণতি বয়ে আনেনি। বরং এর চূড়ান্ত পরিণতি গড়ায় ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিজের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের পথ আরও সুগম হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা উপেক্ষা করায় পাকিস্তানের পরিণতি ভালো হয়নি: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৮:২০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ও ঐতিহ্যকে অবমূল্যায়ন করার নীতি শেষ পর্যন্ত দেশটির জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উপমহাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ একসময় অখণ্ড ভারতের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ভারত প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত হয়। তখন পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে আমরা পাকিস্তানের একটি প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। তবে ১৯৪৭ সালের সেই স্বাধীনতা হঠাৎ অর্জিত কোনো ঘটনা ছিল না। এর পেছনে জড়িয়ে ছিল দীর্ঘ ১৯০ বছরের বঞ্চনা, কান্না, নির্যাতন ও সীমাহীন ত্যাগের ইতিহাস। যারা এই জাতিকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুর্দশা থেকে মুক্ত করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ও গভীর ব্যবধান তৈরি হতে শুরু করে। তৎকালীন সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানে তিনটি প্রদেশ এবং পূর্ব পাকিস্তানে একটি প্রদেশ থাকলেও জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। এমনকি জাতীয় সংসদের আসনও জনসংখ্যার এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছিল।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিন্তু এত কিছুর পরও রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে একটি অহেতুক প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি করা হয়। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষাকে অবমূল্যায়ন করে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে তাদের সেই অবস্থান শেষ পর্যন্ত ভালো কোনো পরিণতি বয়ে আনেনি। বরং এর চূড়ান্ত পরিণতি গড়ায় ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিজের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের পথ আরও সুগম হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh