সরকারি চাকরির ১১-২০তম গ্রেডে নিয়োগের নম্বর বণ্টনে বড় পরিবর্তন আসছে
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বণ্টনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর এই প্রস্তাবে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান কম থাকলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডে মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে, যার মধ্যে লিখিত ১০০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর থাকবে। ১৩-১৬তম গ্রেডের ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত ৬০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১৭-২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষাতেই ২৫ করে মোট ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য যদি ব্যবহারিক পরীক্ষা নির্ধারিত থাকে, তবে তাঁকে সেই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে।
বিস্তারিত নম্বর বণ্টনে দেখা যায়, ১১-১২তম গ্রেডের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর করে থাকবে। এতে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৩৫ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ। ১৩-১৬তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ১৫ নম্বর করে মোট ৬০ নম্বর থাকবে এবং উভয় পরীক্ষায় পাস নম্বর হবে ৪০ শতাংশ। ১৭-২০তম গ্রেডের লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ৫ নম্বর করে মোট ২৫ নম্বর থাকবে এবং উভয় পরীক্ষায় পাস নম্বর হবে ৪০ শতাংশ।
বর্তমানে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংযুক্ত অধিদপ্তর, পরিদপ্তর এবং দপ্তরের ‘কমন পদ’ নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী উচ্চমান সহকারীসহ সমপর্যায়ের পদে লিখিত পরীক্ষায় ৭০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর রয়েছে। অন্যদিকে, সচিবালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বা অফিস সহকারীর মতো পদে সরাসরি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা ১০০ এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০। নতুন প্রস্তাব পাস হলে এই কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার, কোস্ট গার্ড, র্যাব বা পিএসসির আওতাধীন কোনো পদে এই নতুন বিধিমালা প্রযোজ্য হবে না।
সরকার এই পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বনের প্রবণতা বেড়েছে। এতে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নিয়োগপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু নিয়োগ নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সামঞ্জস্য আনতেই ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই বিধিমালা তৈরির লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং লেজিসলেティブ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি গত ৪ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ৩০ আগস্ট নিয়োগবিধি পরীক্ষণসংক্রান্ত উপকমিটির সভায় খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই খসড়াটি প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জানান, কোনো বৈষম্য সৃষ্টি নয়, বরং দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করতেই নিয়োগের মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে সাবেক সচিব ও বিপিএটিসির সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হয়তো অরণ্যরোদন!’ শিরোনামে এক লেখায় তিনি বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০-এর বেশি হওয়া উচিত নয়। এতে দুর্নীতি বাড়বে, সুশাসন ব্যাহত হবে এবং আলটিমেটলি রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




























