বিদেশে মব হামলা সরকার সমর্থন করে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলবদ্ধ মব হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাকে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, যারা নতুন বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, বিদেশের মাটিতে তাদের ওপর এ ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি মেলা প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রবাসী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। শামা ওবায়েদ বলেন, দেশে কিংবা বিদেশে কোথাও মব রাজনীতি ও মব কালচারকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। অকারণে সন্ত্রাস সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। নতুন বাংলাদেশে রাজনীতিকে একটি স্বচ্ছ, সুস্থ ও মানবিক ধারায় নিয়ে যেতে হবে।
বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, ছাত্রদল ও যুবদলসহ বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তারা গাছের নিচে কিংবা বিভিন্ন স্থানে যাযাবরের মতো দিন কাটিয়েছেন। পুলিশের বর্বর নির্যাতনে অনেকে কারাগারে গেছেন এবং অসংখ্য মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমনকি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে অনেকে খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত এই নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের অবদান ভুলে গেলে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়ী থাকতে হবে। তাই দেশ গঠন ও উন্নয়নের কাজে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, জিয়া আমাদের উৎপাদন, উন্নয়ন, জনসেবা ও গণসেবার রাজনীতির পাশাপাশি ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দিয়েছেন, যা নতুন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
গণতন্ত্র ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। বর্তমানে সংসদ আবারও জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ এখন সংসদের বিভিন্ন আলোচনা সরাসরি দেখতে পারছেন। তবে সমাজ ও গণমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল কথাবার্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষের আহত ও নিহত হওয়ার পর নতুন বাংলাদেশে এমন অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চান না। শামা ওবায়েদ আরও বলেন, সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা নাগরিকদের অধিকার এবং গণমাধ্যমও এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বাধীন। তবে সমালোচনার নামে অশ্লীলতা, গালাগালি ও অসুস্থ রাজনৈতিক চর্চা ছড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। ভদ্র ও গঠনমূলক ভাষায়ও সরকারের সমালোচনা করা সম্ভব।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ক্যাবিনেট সভাতেই কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড চালু করা হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য শিগগিরই প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক খাত গত ১৭ বছরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব খাত নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পূর্ববর্তী সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার এ সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে এবং সংকটের কারণে জনগণের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। এ সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



























