ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

অগ্নিনির্বাপক রিফিলে প্রতারণা, অভিযুক্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিলের নামে ব্যাপক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার সংগ্রহ করে ভেতরের ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার পরিবর্তন না করেই শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এরপর ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের একটি বৈধ প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগিয়ে রিফিল ও মেয়াদোত্তীর্ণের ভুয়া তারিখ বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো স্টিকারে রিফিলকারীর কোনো স্বাক্ষরও নেই।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা রেখেই তারা জীবনরক্ষাকারী এই সরঞ্জাম রিফিলের জন্য হস্তান্তর করেন। প্রতিটি যন্ত্র রিফিলের জন্য তাদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার বা রসিদ দেওয়া হয় না। ফলে ভেতরে আদৌ নতুন রাসায়নিক দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করার কোনো সুযোগ থাকে না গ্রাহকদের।

মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুজ্জামান সুমনের মূল কর্মস্থল পাশের খালিয়াজুরী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। তবে ওই স্টেশনটি বর্তমানে চালু না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বও পালন করছেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে তিনি এই দুই উপজেলার স্টেশন অফিসারের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ বিক্রির প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা তদারকি ও ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা ফায়ার সার্ভিসের হাতে থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে।

মোহনগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর কেমিক্যালের মেয়াদ শেষ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে সিলিন্ডারগুলো নিয়ে যান এবং পরে রিফিল করা হয়েছে বলে ফেরত দিয়ে টাকা নেন। ফেরত দেওয়া সিলিন্ডারে ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার লাগানো থাকে। মোহনগঞ্জের মাইলোড়া এলাকার রাবেয়া এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আইনুল হক জানান, কয়েক মাস আগে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তার প্রতিষ্ঠানের দুটি সিলিন্ডার নিয়ে গিয়ে রিফিল করে দেন। এর জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয়নি। একই ধরনের অভিযোগ করেন ফারহা এন্টারপ্রাইজের মালিক রেজাউল হক।

শাহ জালাল (র.) ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম সেলিম বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের দুটি সিলিন্ডার কামরুজ্জামান সুমন নিজে নিয়ে গিয়ে রিফিল করে দিয়েছেন। টাকা দেওয়া হলেও কোনো ভাউচার পাননি তারা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রিফিল না করে যদি পুরোনো কেমিক্যাল রেখে দেওয়া হয়, তবে আগুন লাগলে তা কোনো কাজে আসবে না। আদর্শ ল্যাবের ইমরান হোসেনও জানান, প্রতি সিলিন্ডার রিফিলের জন্য তার কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। মডেল ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মনির হোসেন জানান, তারা ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে টাকা দিয়ে রিফিল করান। এমনকি তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি নতুন সিলিন্ডারও কিনেছেন তিনি। একই অভিযোগ করেছেন রোকেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রুবেল মিয়াসহ একাধিক ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের অন্তত ২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জ্বালানি তেল বিক্রির প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব সিলিন্ডারেই ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার লাগানো। তবে এর সত্যতা যাচাই করতে অন্তত ১০টি স্টিকারের ছবি ‘দ্য সেফ মার্ট’-এর স্বত্বাধিকারী ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা দুলাল মিয়ার কাছে পাঠানো হয়। ছবিগুলো দেখে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এর মধ্যে মাত্র দুটি সিলিন্ডার তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে রিফিল করা হয়েছে। বাকি আটটি সিলিন্ডারের স্টিকার তাদের নয়, অর্থাৎ সেগুলো নকল। দুলাল মিয়া বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাই কেমিক্যাল দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব নয়। রিফিল না করে এমন ভুয়া স্টিকার লাগানো স্পষ্ট প্রতারণা এবং ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, কামরুজ্জামান সুমন মোহনগঞ্জ পৌরশহরের একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং দোকান থেকে ‘দ্য সেফ মার্টের’ স্টিকার হুবহু নকল করে ছাপিয়ে নিয়েছেন। নওহাল এলাকার দুই বাসিন্দা দাবি করেছেন, তাদের সামনেই সুমন ওই দোকান থেকে জোরপূর্বক স্টিকারগুলো ছাপিয়েছেন। প্রথমে দোকানের ডিজাইনার রাজি না হলেও পরে চাপের মুখে তা করতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে প্রমাণ দেখানোর পর ওই ডিজাইনার বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযুক্ত স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে রংপুরে কর্মরত থাকাকালে তার ফেনসিডিল সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। তখন সুমন দাবি করেছিলেন, তাকে ভয় দেখিয়ে ফেনসিডিল খাওয়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বদলি করা হয়। বর্তমানে মোহনগঞ্জে যোগদানের পরও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তার বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের অভিযোগ তুলেছেন।

তবে কামরুজ্জামান সুমন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা রিফিল করার জন্য কোনো সিলিন্ডার নেন না। ব্যবসায়ীরা পরামর্শ চাইলে শুধু অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের নাম বলে দেওয়া হয়। নকল স্টিকার ছাপানোর অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল কাজ করবে না ঠিকই, তবে যাদের সিলিন্ডার রিফিল করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে তা কাজ করছে কি না। মাদক সেবনের প্রশ্নটি তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাজ শুধু পরামর্শ দেওয়া, নিজেরা রিফিল করা নয়। অবৈধভাবে স্টিকার ছাপিয়ে প্রতারণা করা অপরাধ। অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিলের জন্য ১ হাজার, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সংখ্যাও ভিন্ন। কোনো প্রতিষ্ঠানে ১০টি, কোথাও পাঁচটি, আবার কোথাও দুটি কিংবা ছোট প্রতিষ্ঠানে একটি করে যন্ত্র রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

অগ্নিনির্বাপক রিফিলে প্রতারণা, অভিযুক্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিলের নামে ব্যাপক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার সংগ্রহ করে ভেতরের ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার পরিবর্তন না করেই শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এরপর ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের একটি বৈধ প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগিয়ে রিফিল ও মেয়াদোত্তীর্ণের ভুয়া তারিখ বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো স্টিকারে রিফিলকারীর কোনো স্বাক্ষরও নেই।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা রেখেই তারা জীবনরক্ষাকারী এই সরঞ্জাম রিফিলের জন্য হস্তান্তর করেন। প্রতিটি যন্ত্র রিফিলের জন্য তাদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার বা রসিদ দেওয়া হয় না। ফলে ভেতরে আদৌ নতুন রাসায়নিক দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করার কোনো সুযোগ থাকে না গ্রাহকদের।

মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুজ্জামান সুমনের মূল কর্মস্থল পাশের খালিয়াজুরী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। তবে ওই স্টেশনটি বর্তমানে চালু না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বও পালন করছেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে তিনি এই দুই উপজেলার স্টেশন অফিসারের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ বিক্রির প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা তদারকি ও ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা ফায়ার সার্ভিসের হাতে থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রয়েছে।

মোহনগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর কেমিক্যালের মেয়াদ শেষ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে সিলিন্ডারগুলো নিয়ে যান এবং পরে রিফিল করা হয়েছে বলে ফেরত দিয়ে টাকা নেন। ফেরত দেওয়া সিলিন্ডারে ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার লাগানো থাকে। মোহনগঞ্জের মাইলোড়া এলাকার রাবেয়া এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আইনুল হক জানান, কয়েক মাস আগে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তার প্রতিষ্ঠানের দুটি সিলিন্ডার নিয়ে গিয়ে রিফিল করে দেন। এর জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয়নি। একই ধরনের অভিযোগ করেন ফারহা এন্টারপ্রাইজের মালিক রেজাউল হক।

শাহ জালাল (র.) ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম সেলিম বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের দুটি সিলিন্ডার কামরুজ্জামান সুমন নিজে নিয়ে গিয়ে রিফিল করে দিয়েছেন। টাকা দেওয়া হলেও কোনো ভাউচার পাননি তারা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রিফিল না করে যদি পুরোনো কেমিক্যাল রেখে দেওয়া হয়, তবে আগুন লাগলে তা কোনো কাজে আসবে না। আদর্শ ল্যাবের ইমরান হোসেনও জানান, প্রতি সিলিন্ডার রিফিলের জন্য তার কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। মডেল ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মনির হোসেন জানান, তারা ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে টাকা দিয়ে রিফিল করান। এমনকি তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি নতুন সিলিন্ডারও কিনেছেন তিনি। একই অভিযোগ করেছেন রোকেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রুবেল মিয়াসহ একাধিক ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের অন্তত ২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জ্বালানি তেল বিক্রির প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব সিলিন্ডারেই ‘দ্য সেফ মার্ট’ লেখা স্টিকার লাগানো। তবে এর সত্যতা যাচাই করতে অন্তত ১০টি স্টিকারের ছবি ‘দ্য সেফ মার্ট’-এর স্বত্বাধিকারী ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা দুলাল মিয়ার কাছে পাঠানো হয়। ছবিগুলো দেখে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এর মধ্যে মাত্র দুটি সিলিন্ডার তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে রিফিল করা হয়েছে। বাকি আটটি সিলিন্ডারের স্টিকার তাদের নয়, অর্থাৎ সেগুলো নকল। দুলাল মিয়া বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাই কেমিক্যাল দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব নয়। রিফিল না করে এমন ভুয়া স্টিকার লাগানো স্পষ্ট প্রতারণা এবং ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, কামরুজ্জামান সুমন মোহনগঞ্জ পৌরশহরের একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং দোকান থেকে ‘দ্য সেফ মার্টের’ স্টিকার হুবহু নকল করে ছাপিয়ে নিয়েছেন। নওহাল এলাকার দুই বাসিন্দা দাবি করেছেন, তাদের সামনেই সুমন ওই দোকান থেকে জোরপূর্বক স্টিকারগুলো ছাপিয়েছেন। প্রথমে দোকানের ডিজাইনার রাজি না হলেও পরে চাপের মুখে তা করতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে প্রমাণ দেখানোর পর ওই ডিজাইনার বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযুক্ত স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে রংপুরে কর্মরত থাকাকালে তার ফেনসিডিল সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। তখন সুমন দাবি করেছিলেন, তাকে ভয় দেখিয়ে ফেনসিডিল খাওয়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বদলি করা হয়। বর্তমানে মোহনগঞ্জে যোগদানের পরও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তার বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের অভিযোগ তুলেছেন।

তবে কামরুজ্জামান সুমন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা রিফিল করার জন্য কোনো সিলিন্ডার নেন না। ব্যবসায়ীরা পরামর্শ চাইলে শুধু অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের নাম বলে দেওয়া হয়। নকল স্টিকার ছাপানোর অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল কাজ করবে না ঠিকই, তবে যাদের সিলিন্ডার রিফিল করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে তা কাজ করছে কি না। মাদক সেবনের প্রশ্নটি তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাজ শুধু পরামর্শ দেওয়া, নিজেরা রিফিল করা নয়। অবৈধভাবে স্টিকার ছাপিয়ে প্রতারণা করা অপরাধ। অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিলের জন্য ১ হাজার, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সংখ্যাও ভিন্ন। কোনো প্রতিষ্ঠানে ১০টি, কোথাও পাঁচটি, আবার কোথাও দুটি কিংবা ছোট প্রতিষ্ঠানে একটি করে যন্ত্র রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh