ট্রেনে স্টারলিংকের ৬০ রাউটারের ৪৫টিই চুরি, ছাদ থেকে গেছে অ্যান্টেনা
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা স্যাটেলাইটভিত্তিক স্টারলিংক সেবা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে চারটি আন্তনগর ট্রেনে বসানো ৬০টি রাউটারের মধ্যে ৪৫টিই চুরি হয়ে গেছে। শুধু রাউটারই নয়, ঢাকা-সিলেট রুটের উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে একটি মূল্যবান অ্যান্টেনা। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে চলতি বছরের ১৩ মার্চ দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রেনে এই উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়। পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পের আওতায় চার আন্তনগর ট্রেন—পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে এই সেবা দেওয়া হচ্ছিল। কারিগরি সহায়তায় ছিল বিএসসিএল। শুরুতে যাত্রীদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ যাত্রায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা। প্রাথমিকভাবে যাত্রীরা এই ইন্টারনেট সুবিধা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাচ্ছিলেন।
বিএসসিএল কর্মকর্তারা জানান, গত রোজার ঈদের পর থেকেই মূলত ট্রেনগুলো থেকে রাউটার চুরি শুরু হয়। চুরির মাত্রা এত বেশি ছিল যে, শুরুতে প্রতি বগিতে দুটি করে রাউটার দেওয়া হলেও পরে বাধ্য হয়ে কোনো কোনো বগিতে একটি করে রাউটার দিয়ে সেবা সচল রাখতে হয়। চুরি যাওয়া রাউটারগুলো একেবারে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো দুটি বা চারটি করে নতুন রাউটার বসানো হলেও সেগুলোও রেহাই পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে রাউটারের সাথে থাকা তার এবং কেবল চ্যানেলিংও খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। বর্তমানে ৬০টি রাউটারের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ১৫টি, যার ফলে এই সেবার মূল অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি উপবন এক্সপ্রেসের স্টারলিংক অ্যান্টেনা থেকে সিগন্যাল পাওয়া বন্ধ হলে বিএসসিএলের একটি দল ট্রেনের ছাদে গিয়ে অনুসন্ধান চালায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ২ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অ্যান্টেনাটি চুরি হয়ে গেছে এবং কেবল অ্যান্টেনা বসানোর হোল্ডারটি পড়ে আছে। অন্যদিকে, চুরি যাওয়া প্রতিটি রাউটারের বাজারমূল্য ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাদুর রহমান বলেন, যন্ত্রপাতি চুরি ঠেকানো না গেলে ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই যে কারা এই চুরির সাথে জড়িত। এ ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া মেলেনি। তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামান জানান, চলন্ত ট্রেনে চুরি একটি নিয়মিত ঘটনা। এটি প্রতিরোধে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এসব যন্ত্রাংশের আসল মূল্য না জেনেই লোহালক্কড় ভেবে চুরি করে এবং নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়।
এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, গত তিন মাসে বিভিন্ন রুটের চুরি যাওয়া রাউটার প্রতিস্থাপন করা হলেও চুরি বন্ধ করা যায়নি। তাই এখন রাউটার ও অ্যান্টেনা স্থাপনের কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে রেলে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া ৫০টি বগির ভেতরের মূল অবকাঠামোতে রাউটারগুলো স্থাপন করা হবে। আর অ্যান্টেনাগুলো সাধারণ বগির ছাদের পরিবর্তে ট্রেনের ইঞ্জিন বগির ছাদে বসানো হবে যাতে চুরি ঠেকানো যায়।



























