লোডশেডিংয়ে ব্যাহত ইন্টারনেট সেবা, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি সংকট ও এর ফলে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের প্রভাব এখন দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—সবখানেই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ভাদ্রের তীব্র গরমে বিদ্যুতের অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ইন্টারনেট সেবাতেও, যা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য একটি সংযোগ ব্যবস্থা।
ইন্টারনেট সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন না হওয়ায় ব্যবহারকারীরা নিত্যদিনের বিড়ম্বনায় পড়ছেন। অনেক শিক্ষার্থী তাদের একাডেমিক কাজ বা অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে গিয়ে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। একজন শিক্ষার্থী জানান, কাজ বা অ্যাসাইনমেন্ট করতে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, ফলে কাজ শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আরেক শিক্ষার্থী জানান, জরুরি কোনো ডকুমেন্ট পাঠানোর জন্য গ্রুপে প্রবেশের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াইফাই বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ফাইল পাঠানো সম্ভব হয় না।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন আইএসপিএবি জানিয়েছে, তারা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার জন্য ইউপিএস, সৌরবিদ্যুৎ এবং জেনারেটরের মতো বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছেন। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, এখন পর্যন্ত তারা নির্বিঘ্ন সেবা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে সমস্যার তীব্রতা বাড়লে তারা তাদের সেট-আপ পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। এ ক্ষেত্রে জেনারেটরের জ্বালানি তেলের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে যে সংকট থাকবে তা তাদের পক্ষে পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, এটি অনেকটা ইউজারের ওপর নির্ভর করছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট এখন আর সৌখিন কোনো পণ্য নয়, বরং এটি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি পরামর্শ দেন যে, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতে মোবাইল অপারেটরদের টাওয়ারগুলোতে ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবস্থা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া, এই ব্যাকআপ ব্যবস্থা যথাযথভাবে সচল আছে কি না, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিয়মিত তদারকি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।




























