আড়াইহাজারে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙার ভিডিও ভাইরাল
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৪৫
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে লিটন (পাগলা) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত ওই যুবকের একটি হাত ও দুটি পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার জালাকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে এবং দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আহত লিটন ওই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। তিনি এলাকায় ‘লিটন পাগলা’ হিসেবেই পরিচিত।
অভিযুক্ত সুমনের বিরুদ্ধে লাঠিপেটার এই অভিযোগ উঠেছে, যিনি একই এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন লিটন মূলত মানুষের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে খাবার খেয়ে জীবনধারণ করেন। ঘটনার দিন তিনি সুমনের মায়ের কাছে গিয়ে ভাত চেয়েছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন দাবি করেন, লিটন তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এই অজুহাতে সুমন একটি বড় লাঠি নিয়ে লিটনের ওপর চড়াও হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সুমন ওই যুবককে রাস্তায় ফেলে একটি বড় লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাচ্ছেন। এ সময় লিটন বাঁচার জন্য চিৎকার ও আকুতি জানাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, লিটনের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের অনেক মানুষ জড়ো হলেও সুমনের ভয়ে কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসার সাহস পাননি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত সুমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও নেটিজেনরা। এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, মারধরের ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



























