ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুম্বাইয়ে বিক্ষোভস্থল থেকে আটক বলিউড অভিনেতা ইমরান খান সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধে বিকেল হলেই বাড়ছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড় শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়, ফিরতে চাইছেন তিনি: জি এম কাদের শ্রীমঙ্গলে বই পড়ে ল্যাপটপ পেলেন ৮ শিক্ষার্থী মক্কায় ওমরাহ পালন করে আবেগঘন পোস্ট অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের কাফকার সাহিত্য ও ক্ষমতার জটিল সমীকরণ: এক গভীর বিশ্লেষণ আওয়ামী লীগ নতুন ষড়যন্ত্র করতে পারে, সতর্ক থাকার আহ্বান টুকুর নবাবগঞ্জে নানা কর্মসূচিতে চড়ারহাট গণহত্যা দিবস পালন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস: কর্মকর্তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল গেতাফে ম্যাচে বার্সেলোনার একাদশে জেসুস, রাফিনিয়াকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা

সাভারে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নির্যাতন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৫

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকার সাভারে একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টানা ছয় মাস ধরে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসাটির দুই শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার ও আশুলিয়া থানা এবং ডিবির একাধিক দল যৌথভাবে বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে ১২, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী তিন কিশোর শিক্ষার্থী এবং ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষক রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কয়েকজন অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুটিকে সাভারের ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান তার বাবা-মা। সেখানে পড়াশোনা শুরুর তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথম ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক বড় সহপাঠী তাকে জোর করে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ঘটনা দেখে ফেলে মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থী, যে পরবর্তীতে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশুটিকে একইভাবে ধর্ষণ করে। এভাবে ক্রমান্বয়ে মাদ্রাসার মোট পাঁচ শিক্ষার্থী শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালায়।

সহপাঠীদের হাত থেকে বাঁচতে শিশুটি মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষকের (মামলার ৬ নম্বর আসামি) শরণাপন্ন হয়েছিল। কিন্তু সেই শিক্ষক শিশুটির বিছানা নিজের বিছানার পাশে নিয়ে যান এবং গত ৪ জুলাই মধ্যরাতে নিজেই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর থেকে ওই শিক্ষকও শিশুটিকে ক্রমাগত নির্যাতন করতে থাকেন। কান্নাকাটি করলে মুখ চেপে ধরে ভয় দেখাতেন তিনি। পরে ৫ জুলাই শিশুটি অন্য এক সহকারী শিক্ষককে বিষয়টি জানালে, তিনি তাকে বেত দিয়ে পেটান এবং বাবা-মাকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন আরেক শিক্ষকও তাকে মারধর করেন এবং মক্তব বিভাগের প্রধানের কাছে অভিযোগ করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

নির্যাতনের ঘটনা জানতে পেরে গত ১৫ আগস্ট রাতে শিশুটির বাবা পরিচিতদের নিয়ে মাদ্রাসায় যান এবং মুহতামিমকে (পরিচালক) বিস্তারিত জানান। পরিচালক তখন থানায় মামলা না করতে অনুরোধ করেন এবং বিচারের আশ্বাস দেন। তবে পরদিন ১৬ আগস্ট বাবা আবার মাদ্রাসায় গেলে পরিচালক দাবি করেন, অভিযুক্তদের জুতাপেটা করে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে আর না ঘাঁটতে অনুরোধ করেন।

এরই মধ্যে শিশুটি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৮ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে ২০ আগস্ট শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। শিশুটির বাবা সাভারের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তিনি ধারদেনা করে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন এবং বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, বড় আশা নিয়ে ছেলেকে মাদ্রাসায় দিয়েছিলেন, কিন্তু শিক্ষক ও ছাত্ররা মিলে তার ছেলের জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছে। শিশুটি এখন মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত।

এই ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মাদ্রাসার পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিশুটির বাবা। মামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও পাঁচ শিক্ষককে আসামি করা হয়। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর ও অপরাধীদের পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, মক্তব বিভাগে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। সেখানে মামলার অভিযুক্ত দুই কিশোর শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেলেও তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার হিসাবরক্ষক জানান, অভিযুক্ত এক শিক্ষক ১৫ আগস্ট থেকে এবং অন্য দুই শিক্ষকও ঘটনার পর থেকে অনুপস্থিত। মাদ্রাসার পরিচালক মুঠোফোনে দাবি করেন, ছয় মাস ধরে এমন ঘটনা ঘটার পরও শিশুটি বাবা-মাকে জানায়নি, এটি অবান্তর মনে হচ্ছে। তবে তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে দেশের আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সাভারে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নির্যাতন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় : ১২:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার সাভারে একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টানা ছয় মাস ধরে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসাটির দুই শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার ও আশুলিয়া থানা এবং ডিবির একাধিক দল যৌথভাবে বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে ১২, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী তিন কিশোর শিক্ষার্থী এবং ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষক রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কয়েকজন অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুটিকে সাভারের ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান তার বাবা-মা। সেখানে পড়াশোনা শুরুর তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথম ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক বড় সহপাঠী তাকে জোর করে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ঘটনা দেখে ফেলে মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থী, যে পরবর্তীতে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশুটিকে একইভাবে ধর্ষণ করে। এভাবে ক্রমান্বয়ে মাদ্রাসার মোট পাঁচ শিক্ষার্থী শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালায়।

সহপাঠীদের হাত থেকে বাঁচতে শিশুটি মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষকের (মামলার ৬ নম্বর আসামি) শরণাপন্ন হয়েছিল। কিন্তু সেই শিক্ষক শিশুটির বিছানা নিজের বিছানার পাশে নিয়ে যান এবং গত ৪ জুলাই মধ্যরাতে নিজেই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর থেকে ওই শিক্ষকও শিশুটিকে ক্রমাগত নির্যাতন করতে থাকেন। কান্নাকাটি করলে মুখ চেপে ধরে ভয় দেখাতেন তিনি। পরে ৫ জুলাই শিশুটি অন্য এক সহকারী শিক্ষককে বিষয়টি জানালে, তিনি তাকে বেত দিয়ে পেটান এবং বাবা-মাকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন আরেক শিক্ষকও তাকে মারধর করেন এবং মক্তব বিভাগের প্রধানের কাছে অভিযোগ করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

নির্যাতনের ঘটনা জানতে পেরে গত ১৫ আগস্ট রাতে শিশুটির বাবা পরিচিতদের নিয়ে মাদ্রাসায় যান এবং মুহতামিমকে (পরিচালক) বিস্তারিত জানান। পরিচালক তখন থানায় মামলা না করতে অনুরোধ করেন এবং বিচারের আশ্বাস দেন। তবে পরদিন ১৬ আগস্ট বাবা আবার মাদ্রাসায় গেলে পরিচালক দাবি করেন, অভিযুক্তদের জুতাপেটা করে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে আর না ঘাঁটতে অনুরোধ করেন।

এরই মধ্যে শিশুটি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৮ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে ২০ আগস্ট শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। শিশুটির বাবা সাভারের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তিনি ধারদেনা করে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন এবং বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, বড় আশা নিয়ে ছেলেকে মাদ্রাসায় দিয়েছিলেন, কিন্তু শিক্ষক ও ছাত্ররা মিলে তার ছেলের জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছে। শিশুটি এখন মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত।

এই ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মাদ্রাসার পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিশুটির বাবা। মামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও পাঁচ শিক্ষককে আসামি করা হয়। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর ও অপরাধীদের পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, মক্তব বিভাগে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। সেখানে মামলার অভিযুক্ত দুই কিশোর শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেলেও তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার হিসাবরক্ষক জানান, অভিযুক্ত এক শিক্ষক ১৫ আগস্ট থেকে এবং অন্য দুই শিক্ষকও ঘটনার পর থেকে অনুপস্থিত। মাদ্রাসার পরিচালক মুঠোফোনে দাবি করেন, ছয় মাস ধরে এমন ঘটনা ঘটার পরও শিশুটি বাবা-মাকে জানায়নি, এটি অবান্তর মনে হচ্ছে। তবে তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে দেশের আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo