ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের

পদোন্নতির পরেই রাশিয়ায় বিস্ফোরণে মৃত্যু, ভৈরবে জাকিরের মরদেহের অপেক্ষা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাশিয়ায় চাকরিতে পদোন্নতি পাওয়ার সুখবরটি স্ত্রীকে ফোন করে নিজেই জানিয়েছিলেন জাকির হোসেন। বেতন বাড়ার খুশিতে বুক বেঁধেছিলেন নতুন আশায়; ভেবেছিলেন এবার দূর হবে সংসারের অভাব, শোধ হবে ঋণ। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন জাকির। এখন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বাড়িতে কেবলই তাঁর মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা।

গত মঙ্গলবার রাশিয়ার ওই গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১৫ জন নিহত হন। তাঁদেরই একজন ভৈরবের জাকির হোসেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। জাকিরের চাচাতো ভাই আলী হোসেন, যিনি নিজেও রাশিয়ায় জাকিরের সঙ্গেই থাকতেন, গত শুক্রবার দেশের বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এরপর থেকেই পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত জাকিরের সংসারে রয়েছেন মা, স্ত্রী, এক বছরের কন্যাসন্তান তায়েবা এবং তিন ভাই। আট মাস আগে তাঁর বাবা রতন মিয়া মারা যান। জাকিরের স্ত্রী রিপা বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর স্বামী অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। ফোনে বলেছিলেন যে আর কষ্ট করতে হবে না, ঋণ শোধ হয়ে যাবে এবং এখন থেকে সবাই ভালোমন্দ খেয়ে-পরে চলতে পারবে। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। স্বামীর পোড়া লাশটি অন্তত একবার দেখার আকুতি জানান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় ভৈরবের সড়কে অটোরিকশা চালাতেন জাকির। বড় সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেয়ে পরিবারের সবাই মিলে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাত লাখ টাকা খরচ করে জাকিরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে চার লাখ টাকার জমি বিক্রি করতে হয়েছিল, দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল এনজিও থেকে ঋণ করে এবং বাকি টাকা ধারদেনা করা হয়েছিল। রাশিয়ায় আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে চাকরি পাওয়ার পর তাঁর মাসিক বেতন ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তবে ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে বাড়িতে খুব বেশি টাকা পাঠাতে পারতেন না তিনি। এখনো প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ রয়ে গেছে পরিবারটির।

জাকিরের দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও শরিফ হোসেন অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ভাই নূর আলম রিকশা চালান। ছেলের মৃত্যুর খবরে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন মা রোকেয়া বেগম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অভাব দূর করতে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে আজ তাঁর জমিজমাও শেষ, ছেলেও পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল। স্বজনেরা এখন দ্রুত জাকিরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন।

এই বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ জানান, নিহত জাকিরের পরিবারটি অত্যন্ত অস্বচ্ছল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে। পাশাপাশি পরিবারটিকে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন (২৪) ও শরিফ হোসেন (২২) অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পদোন্নতির পরেই রাশিয়ায় বিস্ফোরণে মৃত্যু, ভৈরবে জাকিরের মরদেহের অপেক্ষা

আপডেট সময় : ০৬:২২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ায় চাকরিতে পদোন্নতি পাওয়ার সুখবরটি স্ত্রীকে ফোন করে নিজেই জানিয়েছিলেন জাকির হোসেন। বেতন বাড়ার খুশিতে বুক বেঁধেছিলেন নতুন আশায়; ভেবেছিলেন এবার দূর হবে সংসারের অভাব, শোধ হবে ঋণ। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন জাকির। এখন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বাড়িতে কেবলই তাঁর মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা।

গত মঙ্গলবার রাশিয়ার ওই গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১৫ জন নিহত হন। তাঁদেরই একজন ভৈরবের জাকির হোসেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। জাকিরের চাচাতো ভাই আলী হোসেন, যিনি নিজেও রাশিয়ায় জাকিরের সঙ্গেই থাকতেন, গত শুক্রবার দেশের বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এরপর থেকেই পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত জাকিরের সংসারে রয়েছেন মা, স্ত্রী, এক বছরের কন্যাসন্তান তায়েবা এবং তিন ভাই। আট মাস আগে তাঁর বাবা রতন মিয়া মারা যান। জাকিরের স্ত্রী রিপা বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর স্বামী অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। ফোনে বলেছিলেন যে আর কষ্ট করতে হবে না, ঋণ শোধ হয়ে যাবে এবং এখন থেকে সবাই ভালোমন্দ খেয়ে-পরে চলতে পারবে। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। স্বামীর পোড়া লাশটি অন্তত একবার দেখার আকুতি জানান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় ভৈরবের সড়কে অটোরিকশা চালাতেন জাকির। বড় সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেয়ে পরিবারের সবাই মিলে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাত লাখ টাকা খরচ করে জাকিরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে চার লাখ টাকার জমি বিক্রি করতে হয়েছিল, দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল এনজিও থেকে ঋণ করে এবং বাকি টাকা ধারদেনা করা হয়েছিল। রাশিয়ায় আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে চাকরি পাওয়ার পর তাঁর মাসিক বেতন ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তবে ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে বাড়িতে খুব বেশি টাকা পাঠাতে পারতেন না তিনি। এখনো প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ রয়ে গেছে পরিবারটির।

জাকিরের দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন ও শরিফ হোসেন অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ভাই নূর আলম রিকশা চালান। ছেলের মৃত্যুর খবরে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন মা রোকেয়া বেগম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অভাব দূর করতে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে আজ তাঁর জমিজমাও শেষ, ছেলেও পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেল। স্বজনেরা এখন দ্রুত জাকিরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন।

এই বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ জানান, নিহত জাকিরের পরিবারটি অত্যন্ত অস্বচ্ছল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে। পাশাপাশি পরিবারটিকে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন (২৪) ও শরিফ হোসেন (২২) অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo