জাতীয় সংসদে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ তিনটি বিল উত্থাপিত
- আপডেট সময় : ১২:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা, গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত ও দণ্ডনীয় করা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আজীবন ভোগদখলের অধিকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলেন।
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের আইন রহিত করে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকবেন। আইনমন্ত্রী জানান, কমিশনকে তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ২০০৯ সালের কমিশন আইন পুনর্বহাল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছিল।
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ভুক্তভোগীর মৃত্যু বা পাঁচ বছরের বেশি নিখোঁজ থাকার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষার আইনি কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। বিলে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা, অনুপস্থিতিতে বিচার এবং সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন সংস্থা গঠন না করে পুলিশের ওপরই দায়িত্ব রাখা হয়েছে।
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এ ১৮৮২ সালের আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাবা-মা, দাদা-দাদি বা রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়ের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও দাতা জীবদ্দশায় তা ভোগ করতে পারবেন। নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে এই বিধানটি সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ ২০টি অধ্যাদেশের আইনগত কার্যকারিতা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিলগুলো সংসদে আনা হয়েছে।




























