এলএনজি ফুরিয়ে বন্ধ এক্সিলারেটের টার্মিনাল, গ্যাস-সংকট আরও বাড়ল
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বুধবার বেলা তিনটা থেকে এই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে চলমান গ্যাস-সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গো কেনার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসেই এ ধরনের চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও এসে পৌঁছায়নি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা এই কার্গোগুলো না আসায় এবং নতুন কোনো মজুত না থাকায় টার্মিনাল প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা এবং আমদানির দায়িত্বে রয়েছে আরপিজিসিএল। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে।
মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে—একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির (দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট) এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের (দৈনিক সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট)। গত ২১ জুলাই এক অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত শনিবার তারা পুনরায় পুরোদমে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু সোমবার থেকে সরবরাহ কমতে কমতে আজ তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি নতুন কার্গো আসার কথা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। তবে এক্সিলারেটের জন্য নতুন কার্গো আগামী ২৩-২৪ আগস্টের আগে আসার সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধই থাকবে এবং সংকট আরও বাড়বে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে সাধারণত ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এই সরবরাহের মধ্যে এলএনজির অবদান থাকে ১০৫ কোটি ঘনফুট, যা এই দুটি টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। গত শুক্রবার বিকেলে দুটি টার্মিনালই বন্ধ থাকায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছিল মাত্র ১৬৪ কোটি ঘনফুটে। ওই দিন সন্ধ্যায় সামিট ৯ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু করলে শনিবার ভোরে তা বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। এরপর রবিবার সরবরাহ ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। আজ বুধবার এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধের পর তা আরও কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গতকাল এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও আজ তা নেমে এসেছে মাত্র ৫৫ কোটি ঘনফুটে।



























