আট মাসে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করল বিজিবি
- আপডেট সময় : ১১:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্তে গত আট মাসে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানপণ্য, মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে। সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ চারটি সেক্টর—সিলেট সেক্টর, শ্রীমঙ্গল সেক্টর, কুমিল্লা সেক্টর এবং ময়মনসিংহ সেক্টরের অভিযানে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। সোমবার (১৭ আগস্ট) শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ এই তথ্য জানান।
বিজিবি সূত্র জানায়, ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তে ১৩টি ইউনিটের অধীনে ২২১টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) থেকে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এসব অভিযানে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির সক্রিয় তৎপরতা ফুটে উঠেছে। চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারেও বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক অভিযানে ৪টি পিস্তল, ৬টি এয়ারগান, ৫টি পাইপগান, ১টি ওয়ান শুটারগান, ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তার বাইরে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বিজিবি বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, পিয়াইন নদী, বাল্লাঘাট ও জাফলং এলাকায় অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ২ হাজার ১২১ ঘনফুট বালু এবং ৭ হাজার ৪৬৫ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি জনবল ও ত্রাণ সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় উদ্ধার তৎপরতা, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি কাজ করছে। দুর্গম হাওরাঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে ড্রোনের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, চোরাচালান ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়া দুর্যোগকালীন সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

























