ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না, চুয়েটে মধ্যরাতে বিক্ষোভ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা দেবে জামায়াত বিচারকের আসনে রুহানী সালসাবিল, স্মৃতিকাতর উপস্থাপিকা অক্টোবরে শুরু হচ্ছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ: রোসাটম লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনে এমপির নির্দেশ, সাংবাদিক মহলে বিতর্ক শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার আহ্বান ‘সোলজার’ সিনেমার চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বাড়াচ্ছেন চিত্রনায়িকা ঐশী কেবিনে থাকলে বেঁচে ফিরতাম না: হরমুজে হামলার বর্ণনা বাংলাদেশি নাবিকের রাজধানীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজ: ডিএমপির তালিকায় ১২৮০ জনের নাম মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রকৃত তালিকা তৈরির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

লাকসামে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুমিল্লার লাকসামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চার পরিবারকে মাইকিং করে সমাজচ্যুত করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া সমাজ কমিটির পক্ষ থেকে গত সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মাইকিংয়ে বলা হয়, সমাজের সকল কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনসহ ওই চার পরিবারের সঙ্গে যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হলো। এই ঘোষণার পর থেকে পরিবারগুলোর সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে বাইরে বের হতে পারছেন না এবং ছোট শিশুদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মমিন আলী জানান, তাঁদের পরিবারের ওপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইছাপুরা গ্রামের মমিন আলী এবং একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সর্বশেষ ১৯ জুন দুই পক্ষকে জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করে চলতি মাসের ২০ আগস্ট আবার সালিসে বসার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ২ জুলাই মমিন আলী বাদী হয়ে আলমগীর হোসেন, অহিদুর রহমান ও নেছার আহমেদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। সালিসের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মমিন আলী আদালতে মামলা করায় এই সমাজচ্যুতির ঘোষণা দেওয়া হয়। আলমগীর হোসেন স্থানীয় গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগীদের দাবি, আলমগীর হোসেন তাঁর রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করে এই মাইকিং করিয়েছেন। তবে আলমগীর হোসেন জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করলেও মাইকিং করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে পেরে লাকসাম থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উভয় পক্ষকে বুধবার থানায় ডাকেন। থানায় আলোচনার পর সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলমগীর হোসেন। তিনি দাবি করেন, মাইকিং করেছে স্থানীয় সমাজের কমিটির লোকজন এবং এখন বিষয়টি সমাধান হয়েছে। কান্দিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জানান, তিনি সালিসে উপস্থিত থাকলেও ওই এলাকার বাসিন্দা নন। তিনি মাইকিং করে সমাজচ্যুত করার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামরুন নাহার লাইলী জানান, কোনো পক্ষ স্থানীয়ভাবে বিচার না পেলে আদালতে মামলা করা তাদের আইনগত অধিকার, তাই সমাজচ্যুতির ঘটনাটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। কোরবান আলীর স্ত্রী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, যা এফআইআর হিসেবে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়ায় এবং মাইকিং করা পক্ষ ক্ষমা চাওয়ায় মামলা রেকর্ড না করার অনুরোধ জানানো হয়। বিএনপি নেতা আলমগীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে থানায় উপস্থিত না হলেও উভয় পক্ষ আপাতত বিষয়টি মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আদালতে করা মামলা চলমান থাকবে এবং ভুক্তভোগীরা চাইলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

লাকসামে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০১:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার লাকসামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চার পরিবারকে মাইকিং করে সমাজচ্যুত করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া সমাজ কমিটির পক্ষ থেকে গত সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মাইকিংয়ে বলা হয়, সমাজের সকল কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনসহ ওই চার পরিবারের সঙ্গে যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হলো। এই ঘোষণার পর থেকে পরিবারগুলোর সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে বাইরে বের হতে পারছেন না এবং ছোট শিশুদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মমিন আলী জানান, তাঁদের পরিবারের ওপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইছাপুরা গ্রামের মমিন আলী এবং একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সর্বশেষ ১৯ জুন দুই পক্ষকে জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করে চলতি মাসের ২০ আগস্ট আবার সালিসে বসার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ২ জুলাই মমিন আলী বাদী হয়ে আলমগীর হোসেন, অহিদুর রহমান ও নেছার আহমেদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। সালিসের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মমিন আলী আদালতে মামলা করায় এই সমাজচ্যুতির ঘোষণা দেওয়া হয়। আলমগীর হোসেন স্থানীয় গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগীদের দাবি, আলমগীর হোসেন তাঁর রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করে এই মাইকিং করিয়েছেন। তবে আলমগীর হোসেন জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করলেও মাইকিং করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে পেরে লাকসাম থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উভয় পক্ষকে বুধবার থানায় ডাকেন। থানায় আলোচনার পর সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলমগীর হোসেন। তিনি দাবি করেন, মাইকিং করেছে স্থানীয় সমাজের কমিটির লোকজন এবং এখন বিষয়টি সমাধান হয়েছে। কান্দিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জানান, তিনি সালিসে উপস্থিত থাকলেও ওই এলাকার বাসিন্দা নন। তিনি মাইকিং করে সমাজচ্যুত করার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামরুন নাহার লাইলী জানান, কোনো পক্ষ স্থানীয়ভাবে বিচার না পেলে আদালতে মামলা করা তাদের আইনগত অধিকার, তাই সমাজচ্যুতির ঘটনাটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। কোরবান আলীর স্ত্রী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, যা এফআইআর হিসেবে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়ায় এবং মাইকিং করা পক্ষ ক্ষমা চাওয়ায় মামলা রেকর্ড না করার অনুরোধ জানানো হয়। বিএনপি নেতা আলমগীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে থানায় উপস্থিত না হলেও উভয় পক্ষ আপাতত বিষয়টি মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আদালতে করা মামলা চলমান থাকবে এবং ভুক্তভোগীরা চাইলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo