স্বর্ণ খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈধ শিল্পে রূপান্তরের সরকারি উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৯:০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের স্বর্ণ খাতকে দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক অবস্থা থেকে বের করে একটি বৈধ, স্বীকৃত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক শিল্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ (সংশোধিত) ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং অংশীজনদের কাছ থেকে আগামী রবিবারের মধ্যে লিখিত মতামত আহ্বান করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান, এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে স্বর্ণ খাত দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও যথাযথ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সীমাবদ্ধতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। স্বর্ণ খাতকে অন্যান্য শিল্পের মতো স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈধ আমদানি বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের মজুত, ক্রয় ও বিক্রয়ের প্রতিটি ধাপ হিসাবের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা স্বর্ণের উৎস ও লেনদেনের তথ্য নিয়মিত নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ মূল্য সংরক্ষণের একটি স্বীকৃত মাধ্যম হওয়ায়, দেশীয় বাজারেও বৈধ স্বর্ণের মজুত অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। তবে চোরাচালান রোধে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারমূল্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য কমিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খসড়া নীতিমালায় কেবল আমদানি নয়, বরং দেশে মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণালংকার উৎপাদন ও রফতানির সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পেলে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হবেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের ওপর স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান দামের চাপ কমাতে যৌক্তিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও তিনি জানান।
চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়নের আগে ভারতসহ স্বর্ণালংকার রফতানিকারক বিভিন্ন দেশের নীতি, শুল্ক কাঠামো ও তদারকি পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হবে। এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই খসড়ার ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনবোধে পুনরায় বৈঠক করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে খসড়া নীতিমালা নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


























