ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেবো: অধ্যাপক ইউনূস

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শেরেবাংলা নগরে নবনির্মিত 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই জাদুঘরটি নতুন যাত্রাপথের সূচনা বিন্দু। তিনি মন্তব্য করেন, যদি আমরা কখনো পথ হারিয়ে ফেলি, তবে এই জাদুঘরে এসেই পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, যদি আমাদের চিন্তাধারায় কোনো গাফিলতি দেখা দেয়, তবে এই জাদুঘর থেকেই তার ঠিকানা বের করে নতুন সূত্রে আবার যাত্রা শুরু করা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক ইউনূস জাদুঘরটির অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক জাদুঘর থাকলেও এটি ভিন্ন। কারণ, এখানে অতীতের কোনো সংগ্রহ নেই, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি ঘটনার নমুনা ও ইতিহাস তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এই জাদুঘরটি অতীতকে ধারণ করে ভবিষ্যতের নতুন নকশা রচনা করছে।

শহীদ আনাসের চিঠির প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা গেলাম, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চলে গেলাম'—এটাই এই জাদুঘরের মূল বৈশিষ্ট্য। জাদুঘর প্রাঙ্গণে সাজানো প্রতীকী কবরগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে নাম থাকবে এবং সেখান থেকে দর্শনার্থীরা ইতিহাস জানতে পারবে—কে, কোথায় এবং কীভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসবে এবং তাদের মনের কথা বা ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা লিখে রেখে যাবে। তিনি বলেন, এই চত্বরটি মানুষের আবেগ ও চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে, যেখানে গান-বাজনা, শিল্পকলা এবং বার্তার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠবে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কর্মী নন; তারা আমাদেরই সন্তান, প্রতিবেশী ও বন্ধু। তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে এসেছিলেন। জাদুঘর নির্মাণের পেছনে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রতিটি স্মারক সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় ও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের নতুন অগ্রযাত্রার একটি নাড়ীর সূত্র হয়ে থাকবে, যা আমাদের আত্মমর্যাদা ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেবো: অধ্যাপক ইউনূস

আপডেট সময় : ০১:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

শেরেবাংলা নগরে নবনির্মিত 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই জাদুঘরটি নতুন যাত্রাপথের সূচনা বিন্দু। তিনি মন্তব্য করেন, যদি আমরা কখনো পথ হারিয়ে ফেলি, তবে এই জাদুঘরে এসেই পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, যদি আমাদের চিন্তাধারায় কোনো গাফিলতি দেখা দেয়, তবে এই জাদুঘর থেকেই তার ঠিকানা বের করে নতুন সূত্রে আবার যাত্রা শুরু করা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক ইউনূস জাদুঘরটির অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক জাদুঘর থাকলেও এটি ভিন্ন। কারণ, এখানে অতীতের কোনো সংগ্রহ নেই, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি ঘটনার নমুনা ও ইতিহাস তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এই জাদুঘরটি অতীতকে ধারণ করে ভবিষ্যতের নতুন নকশা রচনা করছে।

শহীদ আনাসের চিঠির প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা গেলাম, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চলে গেলাম'—এটাই এই জাদুঘরের মূল বৈশিষ্ট্য। জাদুঘর প্রাঙ্গণে সাজানো প্রতীকী কবরগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে নাম থাকবে এবং সেখান থেকে দর্শনার্থীরা ইতিহাস জানতে পারবে—কে, কোথায় এবং কীভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসবে এবং তাদের মনের কথা বা ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা লিখে রেখে যাবে। তিনি বলেন, এই চত্বরটি মানুষের আবেগ ও চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে, যেখানে গান-বাজনা, শিল্পকলা এবং বার্তার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠবে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কর্মী নন; তারা আমাদেরই সন্তান, প্রতিবেশী ও বন্ধু। তারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে এসেছিলেন। জাদুঘর নির্মাণের পেছনে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রতিটি স্মারক সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় ও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের নতুন অগ্রযাত্রার একটি নাড়ীর সূত্র হয়ে থাকবে, যা আমাদের আত্মমর্যাদা ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin