ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওমানে সাগরে পড়ে নিখোঁজ নোয়াখালীর প্রবাসী আবু ছায়েদ মিসরের বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক উত্তেজনা: রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ও তলব পুলিশের ঘিরে ফেলা বাড়ি থেকে ছাদ দিয়ে পালালেন সন্ত্রাসী রায়হান ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে ফিরলেন পাঁচ বাংলাদেশি নারী গোলাপগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের পাশে এনসিপির শীর্ষ নেতারা নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে আইনজীবীর চরিত্রে বাঁধন পিএসসির ৮ ক্যাটাগরির পদের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত আগামী শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান বসুন্ধরার চার ফুটবলারসহ পাঁচজনকে দলে নিল মোহামেডান

পুলিশের ঘিরে ফেলা বাড়ি থেকে ছাদ দিয়ে পালালেন সন্ত্রাসী রায়হান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত সন্ত্রাসী এবং বড় সাজ্জাদ বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডপ্রধান হিসেবে পরিচিত রায়হান আলমকে ধরতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার পরও তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রংমারা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল অংশ নেয় এবং স্থানীয় পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বুধবার রাত ১১টার দিকে জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে কোম্পানীগঞ্জে আসে। যাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হয়েছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে পালিয়ে যান। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল হাকিম জানান, রংমারা এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন রায়হান আলম। তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিন্তু অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তিনি ভবনের ছাদে উঠে যান এবং সেখান থেকে লাফ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের দাবি, রায়হান আলমের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্য যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে পালিয়ে যাওয়ার পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রায়হান আলমকে খুব কাছাকাছি গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি অল্পের জন্য পালিয়ে গেছেন। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, রায়হান আলম বর্তমানে বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাকে বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডপ্রধান হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান আলমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক মাসুদ হত্যা মামলাসহ কয়েকটি আলোচিত মামলায় তার নাম এসেছে। এছাড়া বাকলিয়ার জোড়া হত্যা মামলাতেও তিনি আসামি। একই রাতে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে রায়হান আলম পালিয়ে যাওয়ায় সাজ্জাদ বাহিনীর নেতৃত্বের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার এবং রায়হান আলমের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত হওয়া—দুই ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে রায়হান আলমকে গ্রেপ্তার না করা গেলে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪: ২৪আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪: ৩১

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পুলিশের ঘিরে ফেলা বাড়ি থেকে ছাদ দিয়ে পালালেন সন্ত্রাসী রায়হান

আপডেট সময় : ০৭:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
print news

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত সন্ত্রাসী এবং বড় সাজ্জাদ বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডপ্রধান হিসেবে পরিচিত রায়হান আলমকে ধরতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার পরও তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রংমারা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল অংশ নেয় এবং স্থানীয় পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বুধবার রাত ১১টার দিকে জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে কোম্পানীগঞ্জে আসে। যাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হয়েছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে পালিয়ে যান। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরুল হাকিম জানান, রংমারা এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন রায়হান আলম। তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। কিন্তু অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তিনি ভবনের ছাদে উঠে যান এবং সেখান থেকে লাফ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের দাবি, রায়হান আলমের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্য যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে পালিয়ে যাওয়ার পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রায়হান আলমকে খুব কাছাকাছি গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি অল্পের জন্য পালিয়ে গেছেন। তবে তার অবস্থান সম্পর্কে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, রায়হান আলম বর্তমানে বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাকে বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডপ্রধান হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান আলমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক মাসুদ হত্যা মামলাসহ কয়েকটি আলোচিত মামলায় তার নাম এসেছে। এছাড়া বাকলিয়ার জোড়া হত্যা মামলাতেও তিনি আসামি। একই রাতে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে রায়হান আলম পালিয়ে যাওয়ায় সাজ্জাদ বাহিনীর নেতৃত্বের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার এবং রায়হান আলমের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত হওয়া—দুই ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে রায়হান আলমকে গ্রেপ্তার না করা গেলে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪: ২৪আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪: ৩১

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh