সবকিছু পর্যালোচনা করেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

- আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং নির্ধারিত সময়সীমার ভেতরেই এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সরকার সবকিছু পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে সরকারপ্রধান ও আমাদের ওপর দেশের মানুষকে ভরসা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
দুর্নীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে সেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজই করা হয়নি। এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।


























