ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় এসডোর উদ্বেগ ২০০ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবি জানাল আইআরজিসি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪০ বিলিয়ন ডলার সবকিছু পর্যালোচনা করেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮২০ মার্কিন হামলা স্থগিতের পর ইরানও পাল্টা আক্রমণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনের বিচার ও গ্রেফতার নিয়ে আইনি বিতর্ক দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৪ কোটি, জানালেন মির্জা ফখরুল জামায়াত জোট থেকে সরে এল দুই দল, হেফাজতের নতুন উদ্যোগ

পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনের বিচার ও গ্রেফতার নিয়ে আইনি বিতর্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

পদত্যাগের দুদিন পর গত ২৬ জুলাই দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গত ২৪ জুলাই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন তিন বছর তিন মাস।

পদত্যাগের পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তার অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালীন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাংক খাতের লুটপাট ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী মনে করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বাইরে ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণে কোনো বাধা নেই। তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কারাবরণ ও দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের উদাহরণ সামনে এনেছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কাজ করলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে সেটির জন্য আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তবে ৫১(২) অনুচ্ছেদে কেবল রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন কর্মকাণ্ডের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি বা ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি দেয় না। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ-সদস্য জয়নুল আবেদীন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামও একই অভিমত দিয়েছেন। তাদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের আগের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে সংবিধান কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

অন্যদিকে, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, সংবিধানের ৫১ ধারা অনুযায়ী তিনি দায়মুক্তি পেতে পারেন এবং অপরাধের সময় অভিযোগ না তুলে এখন বিচার চাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও দাবি করেছেন যে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বিষয়টিকে তাকে হেয় করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার ৫ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার বিকাল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগ করেন তিনি, যা তার মেয়াদের প্রায় দুই বছর আগেই কার্যকর হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনের বিচার ও গ্রেফতার নিয়ে আইনি বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৫:০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
print news

পদত্যাগের দুদিন পর গত ২৬ জুলাই দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গত ২৪ জুলাই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন তিন বছর তিন মাস।

পদত্যাগের পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তার অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালীন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাংক খাতের লুটপাট ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী মনে করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বাইরে ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণে কোনো বাধা নেই। তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কারাবরণ ও দুর্নীতির মামলায় দণ্ডের উদাহরণ সামনে এনেছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কাজ করলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে সেটির জন্য আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, তবে ৫১(২) অনুচ্ছেদে কেবল রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন কর্মকাণ্ডের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি বা ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি দেয় না। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ-সদস্য জয়নুল আবেদীন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামও একই অভিমত দিয়েছেন। তাদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের আগের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে সংবিধান কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।

অন্যদিকে, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, সংবিধানের ৫১ ধারা অনুযায়ী তিনি দায়মুক্তি পেতে পারেন এবং অপরাধের সময় অভিযোগ না তুলে এখন বিচার চাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও দাবি করেছেন যে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বিষয়টিকে তাকে হেয় করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার ৫ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার বিকাল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগ করেন তিনি, যা তার মেয়াদের প্রায় দুই বছর আগেই কার্যকর হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor