ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শারীরিক অসুস্থতায় পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণের পর থেকে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। এছাড়া তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় 'অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি' নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় এবং তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন। সবশেষে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ের সাংবিধানিক সংকট উত্তরণে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তৎকালীন সরকারের পতনের পর সাংবিধানিক সংকট নিরসনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছিলেন। তার দাবি, তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। এছাড়া বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, তার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। তবে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি সরকারের আমলে তাকে সরানোর দাবি ওঠে।

সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি।

ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

শারীরিক অসুস্থতায় পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণের পর থেকে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। এছাড়া তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় 'অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি' নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় এবং তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন। সবশেষে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ের সাংবিধানিক সংকট উত্তরণে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তৎকালীন সরকারের পতনের পর সাংবিধানিক সংকট নিরসনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছিলেন। তার দাবি, তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। এছাড়া বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, তার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। তবে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি সরকারের আমলে তাকে সরানোর দাবি ওঠে।

সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি।

ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy