ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপ পরবর্তী নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ফুটবল দল হরমুজ প্রণালিতে দুই তেল ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের দাবি আইআরজিসির মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে ১৪০ জনের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি পাবনায় কিশোরী ধর্ষণ-হত্যার জেরে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু ইতালির কোচ হতে কি রাজি হবেন পেপ গার্দিওলা ইজিবাইক ছিনতাইয়ে উপার্জনের পথ হারিয়ে দিশাহারা কিশোর মিশকাত ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেক করার অঙ্গীকার বাংলাদেশের সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে জন্তর মন্তরে শাবানা আজমি ও প্রকাশ রাজ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে ট্রাম্পের সঙ্গে লামিন ইয়ামালের করমর্দন মেটলাইফে মেসিকে দেখার অপেক্ষায় ছিল দর্শক, জয় পেল স্পেন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দৃষ্টি হারানো মিজানুরের জীবন এখন পরনির্ভরশীল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দুই বছর আগেও মো. মিজানুর রহমানের জীবন ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ৮৬৫ জন। মাসে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা আয় করে নিজের ও পরিবারের খরচ জোগাতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মিরপুর মডেল থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি দুই চোখই হারান।

মিজানুর রহমান বর্তমানে তার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের ঢাকনাই কুড়ারপাড় গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি জানান, সেই ভয়াবহ দিনে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে গণভবনের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে থানার ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো গুলি শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে গাছের আড়ালে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তার মাথায় ও চোখে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলে থাকা দুই শিক্ষার্থী তাকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান, যা তার জীবনের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

তাঁর বেতন ছিল ২৪ হাজার টাকা, আর ওই প্রকৌশলী তাঁর অফিসের কিছু কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে মাসে আরও ৫-৬ হাজার টাকা দিতেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মিজানুরের দুই চোখে মোট পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে ডান চোখে তিনি একেবারেই দেখতে পান না এবং বাঁ চোখে ২০ থেকে ২৭ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। প্রতি চার মাস অন্তর তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়।

মিজানুর রহমান এখন সরকারিভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত আহত যোদ্ধা হিসেবে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। কিন্তু এই টাকায় তার সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ ও ওষুধের পেছনেই অনেক টাকা ব্যয় হয়। তিনি জানান, আগে গাড়ি চালিয়ে যে আয় করতেন, তা এখন বন্ধ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনি গরু পালন ও সুপারি বাগান বন্ধক নিয়ে আয়ের চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাতেও বিশেষ সুবিধা করতে পারছেন না। তার স্ত্রী মোসা. নুরজাহান বেগম সংসারের সমস্ত কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানে ১৫ হাজার ৯০৩ জন আহত যোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। মিজানুর সেই তালিকার একজন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তার জীবন এখন পুরোপুরি পরনির্ভরশীল। মাঝেমধ্যে সেই দুঃসময়ের কথা মনে পড়লে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যে দুই শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করেছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের জড়িয়ে ধরার খুব ইচ্ছা হয়। মারিয়া (৯) মাদ্রাসায় পড়ে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দৃষ্টি হারানো মিজানুরের জীবন এখন পরনির্ভরশীল

আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
print news

দুই বছর আগেও মো. মিজানুর রহমানের জীবন ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ৮৬৫ জন। মাসে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা আয় করে নিজের ও পরিবারের খরচ জোগাতেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মিরপুর মডেল থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি দুই চোখই হারান।

মিজানুর রহমান বর্তমানে তার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের ঢাকনাই কুড়ারপাড় গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি জানান, সেই ভয়াবহ দিনে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে গণভবনের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে থানার ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো গুলি শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে গাছের আড়ালে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তার মাথায় ও চোখে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলে থাকা দুই শিক্ষার্থী তাকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান, যা তার জীবনের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

তাঁর বেতন ছিল ২৪ হাজার টাকা, আর ওই প্রকৌশলী তাঁর অফিসের কিছু কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে মাসে আরও ৫-৬ হাজার টাকা দিতেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মিজানুরের দুই চোখে মোট পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে ডান চোখে তিনি একেবারেই দেখতে পান না এবং বাঁ চোখে ২০ থেকে ২৭ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। প্রতি চার মাস অন্তর তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়।

মিজানুর রহমান এখন সরকারিভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত আহত যোদ্ধা হিসেবে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। কিন্তু এই টাকায় তার সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ ও ওষুধের পেছনেই অনেক টাকা ব্যয় হয়। তিনি জানান, আগে গাড়ি চালিয়ে যে আয় করতেন, তা এখন বন্ধ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনি গরু পালন ও সুপারি বাগান বন্ধক নিয়ে আয়ের চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাতেও বিশেষ সুবিধা করতে পারছেন না। তার স্ত্রী মোসা. নুরজাহান বেগম সংসারের সমস্ত কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানে ১৫ হাজার ৯০৩ জন আহত যোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। মিজানুর সেই তালিকার একজন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তার জীবন এখন পুরোপুরি পরনির্ভরশীল। মাঝেমধ্যে সেই দুঃসময়ের কথা মনে পড়লে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যে দুই শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করেছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের জড়িয়ে ধরার খুব ইচ্ছা হয়। মারিয়া (৯) মাদ্রাসায় পড়ে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo