মিরসরাইয়ে চুরির দায়ে যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ক্ষমা
- আপডেট সময় : ১০:০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ব্যতিক্রমী শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তওবা করানোর পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির আস্তানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর চুরি করবেন না—এমন অঙ্গীকারসহ আল্লাহর কাছে তওবা করার সুযোগ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশোধনের অংশ হিসেবে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে বলা হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। শুক্রবার মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির সময় স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। তাকে মারধর না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকবেন।
এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে কেউ তাদের অবহিত করেনি এবং তারা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে আইন অনুযায়ী তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত; আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এটিকে অপরাধীকে সংশোধনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, চুরির মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা উচিত।



























