সুখ কোনো সহজাত বিষয় নয়, বরং অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সুখ বা সন্তুষ্টি সহজাত কোনো বিষয় নয়, বরং এটি অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। জীবনের ভালো ও খারাপ সময়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে খারাপটাকে আঁকড়ে না ধরে বরং ভালো কিছু করার নামই সুখ। হেলেন কেলারের মতে, সুখ নিজে থেকে আসে না, একে তৈরি করে নিতে হয়। সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকরাও একই কথা বলছেন যে, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আচরণ আমাদের সুখী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনুযায়ী, আপনার ভবিষ্যৎ সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে আপনি কতটা সুখী তার ওপর।
অনেকে মন খারাপ হলে দামি কেনাকাটার মতো ‘ট্রিট’ বা সাময়িক আরামের আশ্রয় নেন, যা সমস্যার সমাধান না করে কেবল মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে রাখে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই আরাম কি সত্যিই ভালো অনুভূতি দেবে, নাকি সাময়িক নেশা তৈরি করবে? এর পরিবর্তে গরম শাওয়ার নেওয়া, পছন্দের গান শোনা, প্রিয়জনকে মেসেজ দেওয়া বা একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার মতো সহজ কাজগুলো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারে। সুখী হওয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ অনেক সময় সুখ অনুভব করতে বাধা দেয়। এছাড়া, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেরা জিনিসটি পাওয়ার প্রত্যাশা অনেক সময় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যারা সহজে সন্তুষ্ট হতে পারেন, তারা মানসিক চাপে কম ভোগেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের জন্য সহজ হয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলের মনোবিজ্ঞানী আইরিস মস জীবনের উত্থান-পতন মেনে নিয়ে বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সুখী থাকার জন্য কিছু অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। স্বচ্ছতা বজায় রাখা, প্রত্যাশা কমানো, সময়কে ভালো কাজে ব্যয় করা এবং নেতিবাচক মানুষের থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। এছাড়া, কারো সাথে নিজের তুলনা না করা, নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে চলা জরুরি। বই পড়া, খবর দেখা এবং মানুষের উপকার করার মাধ্যমেও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। প্রকৃতির সান্নিধ্য মস্তিষ্কের জন্য ‘রিসেট বাটন’ হিসেবে কাজ করে; সপ্তাহে অন্তত ৩০ মিনিট প্রকৃতির মাঝে কাটালে বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমে। হাতে সময় কম থাকলে ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখলেও মন হালকা হয়।
পেনসিলভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পজিটিভ সাইকোলজি সেন্টারের গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন ভালো ঘটনাগুলো লিখে রাখলে মানুষ ছয় মাসের মধ্যে অনেক বেশি ইতিবাচক হয়ে ওঠে। এছাড়া, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদী সুখের জন্য অপরিহার্য। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের সম্পর্কগুলো পরিতৃপ্তিময়, তারা বেশি সুখী হন। ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, চেনা গণ্ডির বাইরে গিয়ে নতুন কারো সাথে পরিচিত হওয়া বা অন্যকে সাহায্য করার মতো কাজগুলো আনন্দ বাড়ায়। ফোর্বসের সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিজের জন্য খরচ করার চেয়ে অন্যের কল্যাণে ব্যয় করলে মানুষ বেশি আনন্দিত বোধ করে। সবশেষে, পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমেও মানসিক অবসাদ দূর করা সম্ভব, যা ২০১২ সালে কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।





























