সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাস কর্মী সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে হুতি হামলার শঙ্কা
- আপডেট সময় : ১১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে নিজেদের উপস্থিতি কমানোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতা বাড়িয়ে চলেছে। তারা বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে, যা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ভ্রমণ ব্যবস্থায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। বিষয়টি পুরোপুরি হুতিদের হামলাকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে বলে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের বিমানবন্দরগুলোতে সম্ভাব্য হামলা ও ভ্রমণে ব্যাঘাত ঘটার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর সম্প্রতি হুতিদের একাধিক মারাত্মক হামলার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হলো। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সেখানে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য চিফ অব মিশনের বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
ইয়েমেন সরকারের অনুগত এবং সৌদি সমর্থিত বাহিনী হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে আকাশপথে অভিযানের পরিধি বাড়িয়েছে। বুধবার সৌদি আরব অন্তত সাতটি ড্রোন আটকে দেয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ছোড়া একটি ড্রোনের হামলায় দুইজন প্রবাসী শ্রমিক নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। একই সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন এবং বিমানবন্দরটির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিয়ে সামরিক সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি আরব আরও বেশি আক্রমণাত্মক সহায়তা চেয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসের শুরুতে হুতিদের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করলেও, সরাসরি মার্কিন হামলার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিত্ররা পাশে দাঁড়াচ্ছে; মঙ্গলবার বৃটেন জানিয়েছে যে তারা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে এবং মিশরও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


























