হুতিদের হামলার মুখে প্রাসাদ বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি আরব এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। এই নিরাপত্তাঝুঁকির প্রেক্ষাপটে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সুরক্ষিত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল, যখন তিনি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দিয়েছিলেন। এরপর থেকে হুতিদের হামলা তীব্রতর হওয়ায় তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যুবরাজকে এমন সব প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে যেগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বাংকার সুবিধা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় তার নিরাপত্তায় একটি বাছাই করা বিশেষ দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
গত শনিবার সৌদি আরবে বিগত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয়। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। কর্মকর্তাদের মতে, ইরান-সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চালানো এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছেন, যার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। সপ্তাহান্তের ওই হামলার পর থেকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে এবং গত পাঁচ দিনে সেখানে চারবার হামলা হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান এই হামলার কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের ওপর সৌদি আরবের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই সংঘাত ২০২২ সালে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা স্তিমিত হলেও, ইরানকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। হুতিদের অভিযোগ, ইয়েমেনের রাজধানী সানা’র বিমানবন্দরে ইরান থেকে আসা একটি বিমান অবতরণের সময় সৌদি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামরিক পন্থার ওপর জোর না দিয়ে সংলাপের পরামর্শ দিয়েছেন। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।





























