বেকার তরুণদের প্রতিবাদী মুখ হয়ে মোদি সরকারের মাথাব্যথার কারণ দীপকে
- আপডেট সময় : ০৮:২৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ভারতে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন অভিজিৎ দীপকে। ৩১ বছর বয়সী দীপকে ভারতের দলিত সম্প্রদায়ের একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে কী হবে?’ এই ছয় শব্দের প্রশ্নটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের জন্ম হয়।
এই প্ল্যাটফর্মটি অল্প সময়ের মধ্যে বেকারত্ব, সরকারি চাকরির সংকট, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ তরুণদের একটি শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ঘিরেও আন্দোলন জোরালো হয়। ধারাবাহিক বিক্ষোভের মুখে গত ২৫ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকে কর্মসংস্থান, সরকারি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষা খাতের জবাবদিহির দাবিতে সোচ্চার রয়েছে দীপকের নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি।
সর্বশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নেমে নতুন করে চাপে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পর পুলিশ দীপকেকে আটক করে। তার সঙ্গে সংগঠনের আরও দুই জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয়। যদিও পুলিশের দাবি, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং সহযোগিতার জন্য বলা হয়েছে।
দিল্লিতে পৌঁছানোর পর পুলিশের উদ্দেশে দীপকে বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছেন, গ্রেপ্তার করুন। আমি আপনাদের ভয় পাই না।’ এই আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি যান চলাচল ও টেলিযোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও দীপকে তার সমর্থকদের অহিংস আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় তাদের পিছু হটা উচিত হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা দীপকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তার পোস্টটি তাকে অর্থবহ কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন বলছে, খসড়া তালিকা সংশোধনের সময় বিভিন্ন কারণে কিছু নাম চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভুলভাবে নাম বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার দাবিতে বিস্তৃত হয়ে মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


























