আজ কিংবদন্তি বিপ্লবী চে গেভারার মৃত্যুবার্ষিকী
- আপডেট সময় : ১২:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে বিপ্লব, সাম্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত প্রতীক এর্নেস্তো চে গেভারার মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৯ অক্টোবর। ১৯৬৭ সালের এই দিনে বলিভিয়ায় মাত্র ৩৯ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি বিপ্লবী নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর প্রায় ছয় দশক পার হলেও বিশ্বজুড়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও বিপ্লবী ভূমিকা নিয়ে আজও আলোচনা-বিতর্ক সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।
১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন চে গেভারা। পেশাগত জীবনে তিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন। তবে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় সাধারণ মানুষের চরম দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য ও অবিচার খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই বাস্তবতাই তাঁকে পরবর্তীতে সশস্ত্র বিপ্লবী রাজনীতিতে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
১৯৫০-এর দশকে কিউবার স্বৈরশাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তার সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন চে গেভারা। সেখানে তিনি হয়ে ওঠেন বিপ্লবের মহানায়ক ফিদেল কাস্ত্রোর অন্যতম প্রধান সহযোগী। ১৯৫৯ সালে কিউবার বিপ্লব সফল হওয়ার পর গঠিত নতুন সরকারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন চে। তিনি দেশটির জাতীয় ব্যাংকের প্রধান এবং একই সঙ্গে শিল্পমন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পরবর্তীতে কিউবার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও বিপ্লবের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চে গেভারা। এই লক্ষ্যে তিনি আফ্রিকার কঙ্গো এবং পরবর্তীতে লাতিন আমেরিকার বলিভিয়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী হন এই বিপ্লবী। এর পরদিনই, অর্থাৎ ৯ অক্টোবর তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
চে গেভারার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা মতভেদ রয়েছে। তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের কাছে তিনি শোষণ, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক চিরন্তন প্রতীক। অন্যদিকে, তাঁর সশস্ত্র বিপ্লবের পথ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন অনেকে। তা সত্ত্বেও বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্বের চিরচেনা মুখচ্ছবি ও আদর্শ আজও বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন, সংস্কৃতি ও জনপ্রিয় শিল্পমাধ্যমে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে。



























