ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কূটনৈতিক জোট গঠনের পথে কানাডা
- আপডেট সময় : ১১:১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষিতে কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এক অনন্য কূটনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। অটোয়া ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আলোচনা শুরু করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য হতে চাইছে না।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের পাশাপাশি কানাডার সংসদীয় গণতন্ত্র, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ইউরোপীয় কাঠামোর অনেক মিল রয়েছে। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া সম্ভব না হলেও, অটোয়া দেশগুলোর সঙ্গে একটি বিশেষ সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটেই কার্নি ইউরোপীয় নেতাদের কাছে এই প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই সম্ভাব্য জোটের আওতায় বাণিজ্য বাধা কমানো, সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে সংযোগকারী তার স্থাপন এবং কানাডার প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরোপে সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়ন এবং কানাডীয় নাগরিকদের ইউরোপে ভিসামুক্তভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার প্রদানের মতো বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অটোয়াতে তাদের নতুন অফিস খোলার ঘোষণা দিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সেখানে বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে।
কানাডার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁনসহ ইউরোপের শীর্ষ নেতারা। আলেকজান্ডার স্টাব মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার চেয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম সদস্য হওয়া কানাডার জন্য অনেক বেশি সম্মানজনক। কানাডার অভ্যন্তরেও এই পদক্ষেপের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ কানাডীয় নাগরিক ইউরোপের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়ের পোইলিয়েভ্রে এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কানাডা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম রাষ্ট্র হবে না।




























