নেপালের ত্রিশূলী সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, উদ্ধার কাজ সমাপ্ত
- আপডেট সময় : ১১:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

নেপালের ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধসে যাওয়া সুড়ঙ্গে আর কোনো জীবিত মানুষ অবশিষ্ট নেই বলে নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা। শুক্রবার সেখান থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন করে আর কারও পাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানকার উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে শুক্রবার নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাংয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল ত্রিশূলীর এই সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করেছিল। তাদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও। সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত জানান, গোটা প্রকল্পটির প্রতিটি অংশ কাদা আর মাটিতে চাপা পড়ে গিয়েছে, কোনো কোনো অংশ পাথরে ভরে রয়েছে। তারা সুড়ঙ্গের ভেতর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়েছেন, কিন্তু সবখানেই কেবল কাদা আর মাটির স্তূপ পেয়েছেন। বানের পানির প্রচণ্ড চাপে ওই সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবও ধসে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
গত ২৬ আগস্ট বুধবার সকালে ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সে সময় নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল, যেগুলোর পাওয়ারহাউস সুড়ঙ্গ কেটে মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছিল। বন্যায় প্রতিটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেবল সুড়ঙ্গগুলোতেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের সন্ধানে কাদা ও মাটির স্তূপ সরিয়ে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন নেপালি সেনা ও পুলিশের কর্মকর্তারা। দীর্ঘ নয় দিন পর ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজন নামের দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক শ্রমিকের মরদেহও। সঞ্জয় ও কবীরকে উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে বলে দাবি করা হলেও, উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা শেষ প্রান্ত পর্যন্ত খুঁজে দেখে নিশ্চিত হয়েছেন যে সেখানে আর কেউ নেই।
উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে সঞ্জয় জানান, বানের খবর পেয়ে তিনি সুড়ঙ্গ থেকে অন্যদের বের করার চেষ্টা করছিলেন। এতে দেরি হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজে আর বেরোতে পারেননি। টানা নয় দিন সুড়ঙ্গের ভেতরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ও মন্ত্র জপ করে কাটিয়েছেন তিনি, বেঁচে ফিরতে পারবেন তা ভাবেননি। এদিকে, শুক্রবার পর্যন্ত হড়পা বানে নেপালে মোট ১ হাজার ২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো ৫ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার পর্যন্ত হড়পা বানে নেপালে ১২৮৭টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৫৩০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ।





























