নেপালের সুড়ঙ্গে ৯৩ শ্রমিকের সন্ধানে থার্মাল ড্রোন অভিযান
- আপডেট সময় : ১১:২৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ভোতেকোশি নদীর বন্যায় রাসুয়া অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর রাসুয়াগড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শ্রমিকরা আটকা পড়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত হতে নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন একটি উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করে। এই উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে একজন নেপালি পর্বতারোহীর শেয়ার করা থার্মাল-ড্রোন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বন্যাকবলিত সুড়ঙ্গের ভেতরে অনুসন্ধান চালাতে দেখা যায়।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য মনীশ মহারজন প্রকল্প থেকে ৯৩ জন শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর নিজের ড্রোন দিয়ে সুড়ঙ্গটি স্ক্যান করেন। অনুসন্ধানটি সুড়ঙ্গের একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছালেও কোনো জীবিত ব্যক্তি বা মরদেহের সন্ধান মেলেনি। মহারজন ইনস্টাগ্রামে একটি আপডেটে জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে কোনো মরদেহের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যারা সুড়ঙ্গের আরও গভীরে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এটি ধীরগতির বন্যা ছিল না, বরং প্রবল তীব্রতার বন্যা ছিল, যার ফলে শ্রমিকদের পালানোর কোনো সময়ই ছিল না।
নেপাল সেনাবাহিনীর কর্মী, প্রকৌশলী এবং ড্রোন পরিচালকরা ব্যাপক অনুসন্ধান চালানোর পর সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, সুড়ঙ্গের প্রবেশযোগ্য অংশে কেউ নেই। এরপর অভিযানটি স্থগিত করে দলটি রাসুয়া জেলার ধুঞ্চেতে ফিরে যায়। রাসুয়াগড়ির এই অভিযানটি রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার ১১টি বন্যাকবলিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে নিখোঁজ হওয়া ৯৩৩ জন শ্রমিকের সন্ধানে চালানো বৃহত্তর অভিযানের একটি অংশ।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, অনেকেই কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন। ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলো নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, খননযন্ত্র এবং সার্চলাইট ব্যবহার করে প্রবেশপথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত দুটি সুড়ঙ্গ থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও আরও কয়েকটি অংশ এখনও কাদায় চাপা পড়ে আছে।
উদ্ধার তৎপরতা পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আপার ত্রিশূলী কমপ্লেক্স। কর্তৃপক্ষের মতে, সেখানে একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকা থাকতে পারেন। ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলগুলোর পাশাপাশি প্রায় ১০,০০০ নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পর এই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়, যাতে ৯০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৫,০০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।




























