দুর্গাপূজায় তিন স্তরের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্য সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সভায় এই তথ্য জানান ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে নিছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পূজা ঘিরে পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী সময়। ইতোমধ্যে পুলিশ সারাদেশে পূজাকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেছে। পূজা চলাকালে সাধারণ পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ সকল পুলিশ ইউনিটে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল চালু রাখা হয়েছে।
সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আইজিপি বলেন, কোনো মহল বা গোষ্ঠী যেন পূজা ঘিরে সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।
যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর জানাতে বা তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পেতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজা চলাকালে প্রতিটি মণ্ডপে সক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো ও স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা এবং সার্বক্ষণিক পাহারা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ ও এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্তসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।



























